বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের নির্যাতনকারী আলিপুরের মোশাররফ ঢালী বহাল তবিয়তে!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৬, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ন /
বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের নির্যাতনকারী আলিপুরের মোশাররফ ঢালী বহাল তবিয়তে!

* ​স্বর্ণ পাচারকারী সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য

* ​সীমান্তজুড়ে রয়েছে তার বিশাল নেটওয়ার্ক

​নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার আলিপুরে আওয়ামী লীগ শাসনের সময় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কথিত মাস্টারমাইন্ড মোশাররফ ঢালী এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করে সীমান্ত এলাকায় তিনি গড়ে তোলেন এক বিশাল অপরাধ সাম্রাজ্য। স্বর্ণ পাচার ও চোরাচালান সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের মূল হোতা ছিলেন এই মোশাররফ। বর্তমানে প্রকাশ্যে না থাকলেও আলিপুরে বিভিন্ন নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি গোপনে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আত্মগোপনে থেকেই নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, মোশাররফ আলিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রফিকুল ঢালীর ছেলে। তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। সাবেক সংসদ সদস্য মুস্তাক আহমেদ রবির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে এলাকায় তার ব্যাপক প্রভাব ছিল। আওয়ামী শাসনামলে বিএনপি-জামায়াতের অসংখ্য নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে ২০১৩-১৪ সালে আলিপুর এলাকায় বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটে তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দেন।এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় তিনি ‘চোরাচালানের সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার অধীনে ১০-১২ জনের একটি আন্তর্জাতিক স্বর্ণ পাচারকারী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা সীমান্ত জুড়ে বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালায়। সাবেক এমপি রবির ছত্রছায়ায় তিনি গরু পাচারের খাটালও নিয়ন্ত্রণ করতেন। ভারতের চোরাকারবারীদের সাথে যোগসাজশে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে গরু ও স্বর্ণ পাচার করে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। একাধিক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।ভুক্তভোগী আব্দুল হক বলেন,আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোশাররফ ঢালী আমাদের ওপর চরম নির্যাতন চালিয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে ভিটেমাটি ছাড়া করেছে এবং বাড়িঘর লুটপাট করেছে। সে একজন চিহ্নিত চোরাকারবারী এবং সীমান্ত এলাকার স্বর্ণ পাচার চক্রের মূল হোতা। সাবেক এমপি রবির আশকারায় সে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছে। নির্যাতন চালিয়েও সে ক্ষ্যান্ত হয়নি, এখনো নাশকতার ষড়যন্ত্র করছে। আমরা দ্রুত তার গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।​আরেক ভুক্তভোগী ওয়াজেদ আলী জানান,মোশাররফ ঢালী ছিল সীমান্তবর্তী চোরাচালানের একক নিয়ন্ত্রক। ক্ষমতার দাপটে সে বহু মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের এলাকাছাড়া করেছে। আমাকেও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও গ্রেপ্তার দাবি করছি।স্থানীয় অধিবাসী আসাদুল হক বলেন,সীমান্তজুড়ে মোশাররফের একক আধিপত্য ছিল। সাবেক এমপি রবির ক্ষমতার জোরে সে সাধারণ মানুষকে মারধর ও মামলা-বাণিজ্য করত। তার ভয়ে আওয়ামী লীগ আমলে বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছিল। এই শীর্ষ চোরাকারবারীর কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।​অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ ঢালী বলেন,আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, এটি সত্য। তবে আমি কোনো ধরনের চোরাচালানের সাথে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় বর্তমানে আমি আত্মগোপনে রয়েছি। একটি বিশেষ মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।