প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ফান্ডের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ


News Desk (S) প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৫, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ন /
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ফান্ডের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

মোমিনুর রহমান সবুজ: সাতক্ষীরা সদর উপজেলাধীন অন্যতম বিদ্যাপীঠ ঝাউডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বহু অনিয়ম-দুর্নীতির হোতা আবুল কাশেম এর বিরুদ্ধে এবার ভুয়া রেজুলেশন ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে ৩ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা অবৈধভাবে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বরখাস্তের দাবিতে সরব হয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম এর বিরুদ্ধে তৎকালীন নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যোৎসাহী সদস্য ও অর্থ অপারেটরের দায়িত্বে থাকা মোঃ আলাউদ্দিন আলম এর স্বাক্ষর জাল করে ১৬-০১-২০২৪ইং তারিখে অত্র স্কুলের গ্রাচুইটি ফান্ডের ৩ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়াও অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য, অর্থের বিশেষ প্রয়োজন দেখিয়ে ১৬-০১-২০২৪ইং তারিখে রুপালী ব্যাংক লিঃ এর ঝাউডাঙ্গা শাখার ব্যবস্থাপক বরাবর ঝাউডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গ্রাচুইটি হিসাব নং- ৫৩৭২ হতে ৩ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা উত্তোলন জন্য ভুয়া আবেদন করে প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম। সম্পন্ন অর্থ সরাসরি নগদ গ্রহণ না করে অত্র বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল বিভাগের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুর রব ওরফে তানজের মাস্টারের একই শাখার ২৯৬৪০১১০১৬০০২ হিসাব নাম্বারে স্থানান্তর করা হয়। যাহা সম্পন্ন নিয়ম বহির্ভূতভাবে উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়েছে।

অভিযোগকারী তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যোৎসাহী সদস্য আলাউদ্দিন আলম বলেন, আমি সম্প্রতি জানতে পারি আমার সিল ও স্বাক্ষরে স্কুলের ৩,৬৬,০০০/- টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাৎ হয়েছে। তবে তৎকালীন সময়ে আমি এমন কোন রেজুলেশন ও ব্যাংকের চেক কিংবা আবেদনে স্বাক্ষর করেনি। এটি কোনভাবেই কাম্য নয়, এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম এর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

অভিভাবকদের কয়েকজন বলেন, প্রধান শিক্ষকের কাছে কোন কিছু জানতে চাইলে আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন এবং এরসাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, “একজন প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে এমন অনিয়ম আমরা মেনে নিতে পারি না। একেরপর এক অনিয়মে স্কুলের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

ব্যাংক থেকে ফান্ডের অর্থ অন্য একাউন্টে স্থানান্তর হওয়া সেই শিক্ষক আব্দুর রব ওরফে তানজের মাস্টার বলেন, “প্রধান শিক্ষক ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রাচুইটি ফান্ডের অর্থ আমার একাউন্টে দিবেন এবিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি। পরে জানতে পেরে চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করে টাকাটি প্রধান শিক্ষকের কাছে দেয়।” এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান বলেন, “প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একেরপর এক নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসছে। তাকে দুইবার শোকজ করা হয়েছে। এবার তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”