এসপি আলতাফ ও মনি’র থলিদার ছিলেন প্রধান সহকারী আসমাতুল্লাহ মুকুল গড়েছেন অর্ধশত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ,খতিয়ে দেখবে দুদুক


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১১, ২০২৬, ৬:৩১ পূর্বাহ্ন / ০
এসপি আলতাফ ও মনি’র থলিদার ছিলেন প্রধান সহকারী আসমাতুল্লাহ মুকুল গড়েছেন অর্ধশত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ,খতিয়ে দেখবে দুদুক

বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক: সাতক্ষীরার তৎকালীন চাকুরিচ্যুত দুই জন পুলিশ সুপার মো: আলতাফ হোসেন ও কাজী মনিরুজ্জামানের থলিদার ছিলেন সাতক্ষীরা শহরের আলোচিত সমালোচিত ব্যক্তি সাতক্ষীরা এসপি অফিসের প্রধান সহকারী আসমাতুল্লাহ মুকুল। বর্তমানে তিনি মাগুরা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রধান সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন।বিগত সরকারের আমলে সাতক্ষীরার এসপি মো: আলতাফ হোসেন ও কাজী মনিরুজ্জামান ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে, পুলিশ নিয়োগ, এসপি অফিসের সুইপার,ঝাড়ুদা ও পিয়ন নিয়োগে, স্বর্ণ ছিনতাই, অফিসের বিভিন্ন টেন্ডারে অনিয়মসহ বিভিন্ন অপরাধ মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অবৈধ ভাবে আয় করেছেন আর এসব অবৈধ আয়ের থলিদার হিসাবে কাজ করতেন প্রধান সহকারী আসমাতুল্লাহ মুকুল। এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। জমি, অলিশান বাড়ি, নামে বেনামে সম্পদের পাহাড়। বর্তমানে তার নামে বেনামে অর্ধ শত কোটি টাকার সম্পদ আছে বলে দাবী করেছেন শহরের স্থানীয় বাসিন্দারা।
এব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন দূর্ণীতি দমন কমিশন খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক।  সূত্র জানায়, দরিদ্র পরিবারের সন্তান আসমাতুল্লাহ মুকুল পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সন্ধানে শ্যামনগরের পদ্দপুকুর এলাকা থেকে সাতক্ষীরা শহরে আসেন। একসময় শ্রমিকের কাজ করে পরে কোর্টে মুহুরির কাজ করে জীবণ জিবিকা পরিচালনা করতেন। এক পর্যায়ে এসপি অফিসের অফিস সহকারী পদে চাকুরি পান পরে তিনি এসপি’র প্রধান সহকারী হন এর পর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে, পরিবারের সদস্যদের নামে এমনকি ঘনিষ্ঠ স্বজনদের নামে জমি ও বাড়িসহ বিপুল সম্পদ রয়েছে। শহরের মাস্টারপাড়া ও শ্যামনগর পদ্মপুকুর এলাকায় জমি এবং শহরে দু’টি বাড়ি আছে। পাশাপাশি খুলনা ও ঢাকায় প্লট বা ফ্ল্যাট আছে।জানা গেছে, ‘জারা এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মুকুলের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে তিনি প্রভাব বিস্তার করতেন। পুলিশ নিয়োগ ও সিভিল কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া বদলি, পদায়ন, মামলা সংক্রান্ত তদবির এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর প্রভাব ছিল।আসমাতুল্লাহ মুকুলের সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি, আত্নীয় স্বজনদের সম্পদের হিসাব দুদক এর মাধ্যমে তদন্ত করলে মুকুলের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।অভিযোগের বিষয়ে আসমাতুল্লাহ মুকুল তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমি নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জারা এন্টারপ্রাইজের কথা তিনি স্বীকার করেন।অপরদিকে, দূর্ণীতিগ্রস্থ কর্মচারী মুকুলের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দূর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ হেডকোয়ার্টারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন সাতক্ষীরার সচেতন মহল।