# ৭ বছর সাতক্ষীরা এসপি অফিস থেকে শত কোটি টাকার মালিক।
# আসমাতুল্লাহ মুকুল এখন মাগুরা এসপি অফিসের প্রধান সহকারী।
# সাতক্ষীরা শহরে দু’টি আলিশান বাড়ি, মাষ্টার পাড়ায় ও পদ্দপুকুরে কোটি কোটি টাকার জমি।
# নিজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জারা এন্টারপ্রাইজের নামে বাগিয়ে নেন সব কাজ।
# পুলিশ নিয়োগ ও সিভিল কর্মচারি নিয়োগ পুরা লেনদেনের দায়িত্বে ছিলেন মুকুল।
# সোনা কাড়া, মামলা বাণিজ্য, তদরির ও বদলি বাণিজ্যে এসপিদের ডানহাত মুকুল।
# খুলনা ও ঢাকায় আছে প্লট ও ফ্লাট।
# স্ত্রী, সন্তান, শশুর বাড়ি আত্বীয় স্বজনদের নামে, এমনকি নামে বেনামে রেখেন অঢেল সম্পদ।বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক : সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ের সাবেক প্রধান সহকারী আসমাতুল্লাহ মুকুলের বিরুদ্ধে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন, নিয়োগ ও বদলি সংক্রান্ত অনিয়ম এবং প্রভাব খাটানোর নানা অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি মাগুরা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রধান সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন।
সূত্র জানায়, দরিদ্র পরিবারের সন্তান আসমাতুল্লাহ মুকুল পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সন্ধানে শ্যামনগরের পদ্দপুকুর এলাকা থেকে সাতক্ষীরা শহরে আসেন। একসময় শ্রমিকের কাজ করে পরে কোর্টে মুহুরির কাজ করে জীবণ জিবিকা পরিচালনা করতেন। এক পর্যায়ে এসপি অফিসের অফিস সহকারী পদে চাকুরি পান পরে তিনি এসপি’র প্রধান সহকারী হন এর পর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। চাকুরির সময়ে সাতক্ষীরায় তিনি ২/৩ জন দূর্ণীতিবাজ পুলিশ সুপারের সাথে কাজ করার সুযোগ পান।
সাতক্ষীরা এসপি কার্যালয়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সময় মুকুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। ওই সময়ে তাঁর সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়েও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।
অভিযোগ সূত্র আরো জানায়, সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে, পরিবারের সদস্যদের নামে এমনকি ঘনিষ্ঠ স্বজনদের নামে জমি ও বাড়িসহ বিপুল সম্পদ রয়েছে। শহরের মাস্টারপাড়া ও শ্যামনগর পদ্মপুকুর এলাকায় জমি এবং শহরে দু’টি বাড়ি আছে। পাশাপাশি খুলনা ও ঢাকায় প্লট বা ফ্ল্যাট আছে।
জানা গেছে, ‘জারা এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মুকুলের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে তিনি প্রভাব বিস্তার করতেন। পুলিশ নিয়োগ ও সিভিল কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া বদলি, পদায়ন, মামলা সংক্রান্ত তদবির এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর প্রভাব ছিল।
আসমাতুল্লাহ মুকুলের সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি, আত্নীয় স্বজনদের সম্পদের হিসাব দুদক এর মাধ্যমে তদন্ত করলে মুকুলের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।
অভিযোগের বিষয়ে আসমাতুল্লাহ মুকুল তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমি নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জারা এন্টারপ্রাইজের কথা তিনি স্বীকার করেন।
সাতক্ষীরার আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিভাগীয় শৃঙ্খলা ও সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮ কোনো সরকারি কর্মচারী যদি নিজ দপ্তরে ঠিকাদারি কাজ ভাগিয়ে নেন বা নিজ নামে/বেনামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (যেমন: জারা এন্টারপ্রাইজ) পরিচালনা করেন, তবে তা ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-এর চূড়ান্ত লঙ্ঘন। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে চাকরিচ্যুত করা, বাধ্যতামূলক অবসর বা পদাবনতি দেওয়ার বিধান রয়েছে। পুলিশ ও সিভিল কর্মচারী নিয়োগ এবং বদলি বাণিজ্যে জড়িত থাকার বিষয়টি পেনাল কোড (দণ্ডবিধি), ১৮৬০-এর ধারা ১৬১ (ঘুষ গ্রহণ) এবং ধারা ৪০৯ (সরকারি কর্মচারী কর্তৃক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ)-এর অধীনে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এব্যাপারে নাগরিক নেতা ইদ্রিস আলী জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), আয়কর কর্তৃপক্ষ ও ভূমি অফিসের নথি যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। যদি প্রমানিত অপরাধী হন তাহলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
অপরদিকে, দূর্ণীতিগ্রস্থ কর্মচারী মুকুলের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দূর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ হেডকোয়ার্টারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন সাতক্ষীরার সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন :