নাজির শাহাবুদ্দিনের হাত ধরে স্থায়ী পদায়ন: সাতক্ষীরা ভূমি অফিসে সুমির বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের শেষ কোথায়? 


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ন /
নাজির শাহাবুদ্দিনের হাত ধরে স্থায়ী পদায়ন: সাতক্ষীরা ভূমি অফিসে সুমির বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের শেষ কোথায়? 

বিশেষ প্রতিনিধি : টাকার বিনিময়ে চাকরি, ভুয়া দলিল তৈরি এবং নামজারি জালিয়াতি সব মিলিয়ে সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিস এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সরকারি অফিসের একজন সামান্য ‘অফিস সহায়কের’ দুর্নীতির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, অফিস সহায়ক সুমির শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলছে এই অফিসের পুরো ঘুষ বাণিজ্য।অনুসন্ধানে জানা যায়, দুর্নীতি ও ঘুষের বিনিময়ে প্রথমে ওমেদার পদে সাতক্ষীরা ডিসি অফিসে প্রবেশ করেন সুমি। পরবর্তীতে নাজির শাহাবুদ্দিনের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠার পর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সুমির সরকারি ‘অফিস সহায়ক’ পদের চাকরি নিশ্চিত হয়। এরপরই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। কেবল নিজেই নন, নাজির শাহাবুদ্দিনকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে সুমি তার পরিবারের আরও ৭ থেকে ৮ জনকে বিভিন্ন সরকারি অফিসে ‘অফিস সহায়ক’ পদে চাকরি পাইয়ে দেন। ফলে পুরো পরিবারই যেন এক ছাতার নিচে পেয়ে যায় ঘুষ ও দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক লাইসেন্স।সাম্প্রতিক তদন্তে এই সিন্ডিকেটের নতুন এক জালিয়াতির তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি জাল দলিল (নং ১৬২৩/০৭) তৈরি করে লাখ টাকার বিনিময়ে শ্রী রাজকুমার মাখাম নামে এক ব্যক্তির নামে জমি রেজিস্ট্রি ও নামজারি করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘুষের টাকা না দিলে কোনো সেবাগ্রহীতার ফাইল নড়ে না বলে সাধারণ গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন অফিস সহায়কের মূল বেতন (বেসিক স্যালারি) মাত্র ৮,৪০০ টাকা। তবে মাত্র কয়েক বছরে এই বেতনের বিপরীতে সুমি ও তার পরিবারের রসুলপুরে কোটি টাকার জমি কিনে অঝোর ধারায় গড়ে তুলেছেন রাজপ্রাসাদতুল্য বিলাসবহুল বাড়ি।গত তিন বছরেই স্বামী মুরাদকে কিনে দিয়েছেন প্রায় ৮ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি বিলাসবহুল মোটরসাইকেল।সদর ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিপত্য বিস্তার করে গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির শক্ত বলয়।শহরের স্থায়ী বাসিন্দা কালাম গাজী সেবাগ্রহীতা জানান, সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো দিনই সেবা পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সবাইকেই এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি থাকতে হয়।অফিস সহায়কের মতো সর্বনিম্ন পদের কর্মচারীর এমন আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে সুমি, নাজির শাহাবুদ্দিন ও তাদের সহযোগী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।অভিযুক্ত সুমির কাছে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন নাজির স্যারের মাধ্যমেই আমার চাকরি হয়েছে এবং আমার পরিবারের অনেকেরই  চাকরি দিয়েছেন। আর বর্তমানে কোন অফিসে ঘুষ,দুর্নীতি হয় না আমাকে একটু দেখান। আর আমরা ঘুষ দুর্নীতি করলে দোষ।