লাইসেন্সবিহীন আল-শেফা জেনারেল হাসপাতাল  যেন এক মৃত্যুফাঁদ!গোপনে প্যাথলজিস্ট ছাড়াই চলছে পরীক্ষা ও জাল সিল-স্বাক্ষর!দেখার কেউ নেই? 


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৩০, ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন /
লাইসেন্সবিহীন আল-শেফা জেনারেল হাসপাতাল  যেন এক মৃত্যুফাঁদ!গোপনে প্যাথলজিস্ট ছাড়াই চলছে পরীক্ষা ও জাল সিল-স্বাক্ষর!দেখার কেউ নেই? 

বিশেষ প্রতিনিধি : লাইসেন্স নেই, কাগজপত্র জমা দেওয়ার বালাই নেই, এমনকি পাস করা কোনো প্যাথলজিস্টও নেই! অথচ বহাল তবিয়তে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে একটি বিশাল সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে গোপনে ও অবৈধভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে ‘আল-শেফা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও তা তোয়াক্কা করছে না প্রতিষ্ঠানটি। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয় সরাসরি নিশ্চিত করেছে, আল-শেফা হাসপাতালকে কোনো ধরনের অনুমোদনেই দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের ক্যামেরায় এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর ভিডিও প্রমাণ ধরা পড়েছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, কোনো যোগ্য প্যাথলজিস্ট ছাড়া জাল সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করে রোগীদের ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহ করা হচ্ছে, যা সরাসরি জালিয়াতি ও মানবজীবনের জন্য চরম হুমকি। শুধু তাই নয়, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি ও চিকিৎসা সেবা নিয়ে নেতিবাচক অপপ্রচার চালিয়ে একটি সুসংগঠিত দালালচক্রের মাধ্যমে প্রতিদিন অসহায় রোগীদের ভাগিয়ে আনা হচ্ছে। চক্রটির মূল হোতা আল-শেফার ভুয়া পরিচালক দাবিদার মাসুদ রাসেল এবং চক্ষু ডাক্তার আমিনুর রহমান। তারা সরকারি হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আল-শেফায় পাঠিয়ে গোপনে মোটা অঙ্কের কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে আসছে।এই চক্রের অন্যতম মূল হোতা মাসুদুর রহমান রাসেলের অপরাধের জাল বহু দূর বিস্তৃত। নিজেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই-খুদার ‘পিএস’ (ব্যক্তিগত সহকারী) দাবি করে সে দীর্ঘদিন ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। সুবিধাজনক সময়ে নিজেকে সরকারি চাকরিজীবী, আবার কখনো সাংবাদিক কিংবা গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার ভাই পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি, আউটসোর্সিং নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রতারণার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে এই বহুরূপী।অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, নিজেকে পরিচালকের পিএস পরিচয় দিয়ে সরকারি হাসপাতালের  থেকে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ চুরি করে বাইরে বিক্রি করত এই মাসুদ। এমনকি রাতের অন্ধকারে হাসপাতালের মহামূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি করে গড়ের কান্দা এলাকার ভাঙড়ির দোকানে বিক্রি করার মতো দুর্ধর্ষ অপরাধ ঘটানো হয়েছে।মাসুদের অপকর্মের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই-খুদা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার কোনো পিএস ছিল না এবং এখনো নেই। এই মাসুদ একজন ভণ্ড ও প্রতারক, সে আমার নাম ভাঙিয়ে চলছিল। আপনারা তাকে ধরে সরাসরি পুলিশের হাতে তুলে দিন।সাতক্ষীরার বিশিষ্ট নাগরিক নেতা আবুল হোসেন বলেন, এই প্রতারক একসময় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাইভেট পড়াত। এরপর পরিচালকের পিএস সেজে আউটসোর্সিং চাকরির নামে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই অপরাধীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাসুদ রাসেল কোনো অনুশোচনা না দেখিয়ে উল্টো ধৃষ্টতা প্রকাশ করে বলেন, আমার হাত অনেক লম্বা। নিউজ করে পারলে কিছু করে নিয়েন, আমিও একসময় সাংবাদিক ছিলাম।​অবৈধভাবে পরিচালিত ভুয়া রিপোর্ট তৈরির এই লাইসেন্সবিহীন আল-শেফা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড  ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি অবিলম্বে বন্ধ এবং এর নেপথ্যে থাকা জালিয়াতি চক্র ও সরকারি সম্পত্তি চুরি চক্রের সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরার সচেতন জনগণ।এদিকে,সাতক্ষীরা আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (The Penal Code, 1860) ​ধারা (৪১৯) ছদ্মবেশ ধারণ করে প্রতারণা করে নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা, মেডিকেলের পরিচালকের ‘পিএস’ বা ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করার জন্য এই ধারায় সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।ধারা( ১৩) অনুযায়ী  কোনো ক্লিনিক বা হাসপাতালের মালিক লাইসেন্স ছাড়া বা শর্ত লঙ্ঘন করে কার্যক্রম চালালে  কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড (বা উভয় দণ্ড) হতে পারে।সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, সাতক্ষীরায় অবৈধ ক্লিনিক ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। যাদের লাইসেন্স নেই, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। অবৈধ ক্লিনিকগুলো সিলগালা করে দেওয়া হবে।