জেলা আ’লীগ সম্পাদক নজরুলের ছোট ভাই পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়ানো ভূমি নায়েব মনি’র ঘুষ, দূর্ণীতি অনিয়মের শেষ কোথায়?


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৩০, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন /
জেলা আ’লীগ সম্পাদক নজরুলের ছোট ভাই পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়ানো ভূমি নায়েব মনি’র ঘুষ, দূর্ণীতি অনিয়মের শেষ কোথায়?
স্টাফ রিপোর্টার : কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ মো: নজরুল ইসলামের ছোট ভাই পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়ানো মহা দূর্ণীতিবাজ ভূমি নায়েব মোস্তফা মনিরুজ্জামন মনি’র ঘুষ, দূর্ণীতি ও অনিয়ম চরমে থাকার পরেও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ দেখেও দেখছে না। সচেতন মহলের ভাষ্য মনি’র ঘুষ, দূর্ণীতি ও অনিয়মের শেষ কোথায়?
সূত্র জানায়, পিতার উল্লেখযোগ্য কোন সম্পদ না থাকলেও বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলার শ্রেষ্ঠ দূর্ণীতিবাজ ভূমি নায়েব মোস্তফা মনিরুজ্জামন মনি অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। তার আয়ের সাথে সম্পদের কোন মিল নেই। নিজের নামে, বেনামে, আত্নীয় স্বজনের নামে কিনে রেখেছেন কয়েক বিঘা জমি।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদহা, সদর ও পৌর অফিসের বড় বাবু, বর্তমানে ধুলিহর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নায়েব মনি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দিদারচ্ছে ঘুষ বার্ণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। কতিপয় কর্মকর্তার সাথে ভালো সম্পর্ক থাকার সুবাদে সে ঘুরে ফিরে ঘুষের রাজ্য নামক ষ্টেশনে বদলি হয়। যার প্রেক্ষিতে সে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছে। চাকরি থেকে অর্জিত আয়ের তুলনায় সম্পদ ও জীবনযাপনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অভিযোগ সূত্র জানায়, ভূমিসেবা দিতে ঘুষ দাবি, ফাইল আটকে রাখা এবং অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে। জমির মামলা তদন্তে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে থাকেন ভূমি নায়েব মনি। টাকা নিয়ে প্রকৃত মালিকের পক্ষে রিপোর্ট না দিয়ে বিপক্ষ পাটির পক্ষে রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে হরহামেশা।
পান্না আক্তারুজ্জামান খান অভিযোগ করে বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি হয়ে। প্রজার সাথে খুব খারাপ আচরন করেন, তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ন আচারনের কারন বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে তিনি আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলামের ছোট ভাই পরিচয়ে দাপট দেখিয়েছেন। এখনো সেটা চলমান আছে।
আবু সাঈদ মিন্টু বলেন, ধুলিহর নায়েব মনি প্রত্যেকের কাছ থেকে ঠাকা নেই। ৭ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাঁর নামজারি-সংক্রান্ত কাজ হয়। অনেক সময় টাকা নিয়ে কাজ করে না।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। ১০০ টাকা ভূমি উন্নয়ন করের পরিবর্তে তাঁকে ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। ভূমি অফিসে দালালের মাধ্যমে কাজ করানোর একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে এবং এর বাইরে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ফাইল নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য সেবাগ্রহীতা, অফিসের নথি এবং সরকারি ফি-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী স্থানীয়দের।
এদিকে নায়েব মনির বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর সরকারি চাকরি থেকে অর্জিত আয়ের তুলনায় সম্পদ ও জীবনযাপনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে তাঁর নামে থাকা সম্পদ, আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী বা সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ড যাচাই করে দুদকের ব্যবস্থা গ্রহন জরুরি মনে করেন স্থানীয়।
অভিযোগের বিষয়ে নায়েব মনির বলেন, সব অভিযোগ মিথ্যা, এখানে পুকুর চুরি হয়না। অন্য নায়েবের মত আমি বেশি খায়না। অপনারা খোঁজ খবর নেন।  তিনি আরো বলেন, “আমার স্যার বলেছে পত্রিকায় যা পারে লিখুক আপনি আপনার মত কাজ করে যান”। নজরুল ইসলামের ব্যাপারে তিনি বলেন আমরা এক এলাকার মানুষ। সম্পর্ক তো থাকতে পারে।
অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে নাগরিক নেতা রায়হান সিদ্দিকী বলেন, অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং তাঁর সম্পদের উৎসও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। দুদকের হস্থক্ষেপও কামনা।