
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার আলোচিত ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) শর্মিষ্ঠা সরকারের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও অসংগতির তথ্য ঢাকতে মোটা অংকের টাকা ছিটানোর অভিযোগ উঠেছে। অনিয়ম ও পরকীয়ার অভিযোগ চাপা দিতে তিনি একশ্রেণীর সুবিধাবাদী সংবাদকর্মীকে ব্যবহার করে মিথ্যা ও মনগড়া সংবাদ প্রচার করাচ্ছেন বলে জানা গেছে।সম্প্রতি জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে নায়েব শর্মিষ্ঠার দুর্নীতির সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর থেকেই তিনি নিজের অনিয়ম ধামাচাপা দিতে ঘুষের টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কর্মস্থলে তার অবাধ ঘুষ বাণিজ্য এবং একাধিক ব্যক্তির সাথে পরকীয়ার প্রমাণ মিলেছে। সম্প্রতি এক সংবাদকর্মীর সাথে তার কথোপকথনের বিতর্কিত কল রেকর্ড এবং কিছু ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের স্ক্রিনশট ফাঁসের পর পুরো জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জেলার কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি শর্মিষ্ঠাকে আইনি ও সংবাদমাধ্যমের সুরক্ষা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তারা নায়েব শর্মিষ্ঠাকে “সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অংকের টাকা চুক্তি করে।কর্মজীবনে শর্মিষ্ঠা সরকার কালিগঞ্জের ভাড়াশিমলা ও বসন্তপুর ইউনিয়নে দায়িত্ব পালনকালে নামজারি (মিউটেশন) সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে সরকারি ‘খ’ তফসিলভুক্ত জমি অবৈধভাবে নামজারি করে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সদরের আগরদাড়িতে স্থানান্তরের পরও দালাল চক্রের মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকার বাণিজ্য করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা একাধিক দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা পাননি। এছাড়াও সদর ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালে এক সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীর সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করার অভিযোগ রয়েছে।সদর উপজেলার থানাঘাটা এলাকায় ফারুক হোসেনের একটি দখলীয় জমির বিষয়ে বিপরীত পক্ষের অনুকূলে প্রতিবেদন না দেওয়ার আশ্বাসে ৫০ হাজার টাকা নেন।আখড়াখোলার গীতা রানী নামের এক ভুক্তভোগী আদালতের রায়প্রাপ্ত জমির নামজারি করতে গেলে তার কাছে শুরুতে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে আকুতি-মিনতি করে ১ লাখ টাকায় বিষয়টি রফা হয়।এছাড়াও তার বিরুদ্ধে সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের তালিকায় সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের এক শিক্ষক, নায়েব ইউনুস চিশতী, খুলনার শিক্ষক সুশান্ত, কালিগঞ্জের সুমন ও সুশান্তসহ এক গণমাধ্যমকর্মীর নাম উঠে এসেছে।যখন একাধিক মূলধারার গণমাধ্যম ও টেলিভিশন চ্যানেল তার এই অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, ঠিক তখনই তিনি ঘুষের অর্থের জোরে মনগড়া গল্প তৈরি করে পাল্টা প্রচারণায় নেমেছেন। কিছু সুবিধাবাদী সংবাদকর্মী অর্থের বিনিময়ে তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করছে, যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাতক্ষীরার মূলধারার সাংবাদিক সমাজ।সাতক্ষীরার একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এ প্রসঙ্গে বলেন, অর্থের বিনিময়ে কোনো অপকর্মকে ঢাকতে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করা মূলধারার সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী। শর্মিষ্ঠা সরকারের দুর্নীতি ও অনিয়মের নানা তথ্য প্রমাণ ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। তাই অর্থের বিনিময়ে তার অপকর্ম ঢাকার এই চেষ্টা সাংবাদিকতার ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে।গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শর্মিষ্ঠা সরকারের কাছে জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে তার দুইটা নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। তখন বর্তমান সাতক্ষীরা পত্রিকার টিম সরেজমিনে তার নতুন কর্মস্থলে বক্তব্য নেয়ার জন্য গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়িয়ে পালিয়ে যান।
আপনার মতামত লিখুন :