ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা, জিম্মি সাধারণ মানুষ-কুলিয়া ভূমি অফিসের ‘ঘুষের মহারাজা’ নায়েব মোকাররম!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন /
ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা, জিম্মি সাধারণ মানুষ-কুলিয়া ভূমি অফিসের ‘ঘুষের মহারাজা’ নায়েব মোকাররম!

বিশেষ প্রতিনিধি : ১১তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মকর্তা, যাঁর মাসিক বেতন ভাতা মিলিয়ে সীমিত। অথচ তাঁর চলাফেরা ও জীবনযাপন কোনো শিল্পপতির চেয়ে কম নয়। সাতক্ষীরা শহরে নির্মাণাধীন আলিশান বাড়ি থেকে শুরু করে নিজ এলাকা ফিংড়িতে কিনেছেন একরের পর একর জমি। মাসে খরচ লাখ টাকারও বেশি! কথা হচ্ছে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি নায়েব) শেখ মোকাররম হোসেনকে নিয়ে। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তি অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, মিষ্টভাষী এই কর্মকর্তা অত্যন্ত চতুরতার সাথে গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলেন। নামজারি (মিউটেশন), রিপোর্টিং, খাজনা দাখিলাসহ ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো সেবায় ঘুষ নেওয়াকে তিনি রীতিমতো নিয়মে পরিণত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কোনো অনিয়মের ঘটনা জানাজানি হওয়ার আগেই তিনি অর্থ দিয়ে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।স্থানীয় গোবিন্দপুর মৌজার ভুক্তভোগী মাহফুজ (৪২) অভিযোগ করে বলেন,আমার ৩০ বিঘা জমির নামজারির জন্য নায়েব মোকাররম সরাসরি ১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। টাকা ছাড়া তিনি একটি ফাইলে সইও করেন না। শুধু তা-ই নয়, যেখানে ১০০ টাকার খাজনা রশিদ পাওয়ার কথা, সেখানে দিতে হয় ৫০০ টাকা। আমি বিভাগীয় কমিশনারের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।কুলিয়া ইউনিয়নের প্রবীণ বাসিন্দা আছাদুল ইসলাম (৬৫) জানান,নায়েব মোকাররমের নিজস্ব দালাল সিন্ডিকেট ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না। আমি নিজে মিউটেশনের আবেদন করেছিলাম, কিন্তু ফাইল আটকে রাখা হয়। পরে তাঁর দুই নির্ধারিত দালালের মাধ্যমে ৭ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার পরই আমার নামজারি ফাইল ছাড় দেওয়া হয়।অভিযোগের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় নাগরিক নেতা আবুল হাসান বলেন,​ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে নায়েব মোকাররমের ভয়ংকর এক ঘুষখোর চেহারা রয়েছে। সাতক্ষীরায় তাঁর নির্মাণাধীন বাড়িসহ অর্জিত অবৈধ সম্পদ অনতিবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা দরকার।​​অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে নায়েব মোকাররম হোসেন সব দাবি অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে তিনি ঔদ্ধত্যের সাথে বলেন, “আমার সাথে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মঈন স্যারের ভালো সম্পর্ক রয়েছে, আপনারা আমার কিছুই করতে পারবেন না।এই কথা বলেই তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি পদে থেকে কোনো কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহণ ও অবৈধ সম্পদ অর্জন ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’ এবং ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী চরম শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন প্রশাসনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সুশীল সমাজ অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জেলা প্রশাসনের কাছে এই ঘুষখোর কর্মকর্তার সম্পদের উৎস তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।