
বিশেষ প্রতিনিধি : অর্থের বিনিময়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে দীর্ঘদিন যাবত রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও ভাতা ভোগ করার অপরাধে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের বিতর্কিত শেখ সামছুর রহমান। বেসামরিক গেজেট ও সনদ বাতিল করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত গেজেট বাতিলের তথ্যমতে, কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মৃত শেখ জবেদ আলীর ছেলে শেখ সামছুর রহমানের নামে ইস্যুকৃত বেসামরিক গেজেট গেজেট নং- ১৮৬৫, পৃষ্ঠা- ১৪৭, তারিখ ২১-০৫-২০০৫ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর ১০০তম সভার সিদ্ধান্ত ও প্রজ্ঞাপন স্মারক নং-৪৮.০০.০০০.০০০.০০৪.৩৭.০০০৮.২৫.১৫৭৮ অনুযায়ী সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা এবং অভিযুক্ত সামছুরের আপন ভাই শেখ সামিউল্লাহ সহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সামছুর রহমান সরাসরি স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং পাক-হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯৭১ সালে শেখপাড়া গ্রামসহ সংলগ্ন এলাকায় তার নিপীড়ন ও ভয়ে রাতের আঁধারে নারী ও সাধারণ মানুষ গৃহবন্দী থাকতেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তলে তলে জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সনদ হাতিয়ে নেন তিনি।এলাকাবাসীর দাবি, কেবল সনদ বা গেজেট বাতিলই যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রীয় কোষাগার ও জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে ভূয়া পরিচয়ে এ যাবৎ সে যত টাকা ভাতা হিসেবে উত্তোলন করেছে, তা সুদে-আসলে সরকারি কোষাগারে ফেরত নিতে হবে এবং তার কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।সাতক্ষীরা আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূয়া তথ্য ও জালিয়াতির আশ্রয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা কেবল নৈতিক অপরাধ নয়, এটি রাষ্ট্রের সাথে প্রতারণা ও দণ্ডনীয় অপরাধ দণ্ডবিধি Penal Code, 1860 অনুযায়ী ধারা ৪১৯ ও ৪২০অন্য ব্যক্তির পরিচয় গ্রহণ করে বা ভুয়া পরিচয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।ধারা ৪৬৫, ৪৬৮ ও ৪৭১ ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে তা খাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে সুবিধা নিলে সর্বোচ্চ ৭ থেকে ১০ বছরের সপশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে।সরকারি অর্থ ফেরত ও বাজেয়াপ্তকরণ Public Demands Recovery Act, 1913 সরকারি সনদ বাতিলের পর উক্ত ব্যক্তি এতদিন ধরে যে সরকারি ভাতা লাভ করেছেন, তা ‘সরকারি বকেয়া’ Public Demand হিসেবে গণ্য হবে। ১৯১৩ সালের ‘পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করে অভিযুক্তের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও নিলামের মাধ্যমে সম্পূর্ণ টাকা আদায় করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।অভিযুক্ত শেখ সামছুর রহমানের কাছে তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাতিল হওয়ার পরে আমি হাইকোর্টে মামলা করে আবারো ফিরে পেয়েছি।এদিকে,নাগরিক নেতা আলীহাসান বলেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা এবং জাতীয় স্মৃতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে ‘ সামছুরের’ মত সকল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে অন্যায্যভাবে নেওয়া সরকারি টাকা দ্রুত ফেরত আনা এবং কঠোর ফৌজদারি শাস্তি প্রদান করা এখন সময়ের দাবি।
আপনার মতামত লিখুন :