
* হকার থেকে পত্রিকার মালিক।
* সাতক্ষীরা সংবাদ পত্রিকাটির ডিক্লিয়ারেশন বাতিলের
জন্য বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ।
* চাঁদাবাজী তার পুরাতন পেশা।
* এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবি’র ডিও লেটারে মেলে পত্রিকা।
* আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঢাকা’র স্বাক্ষী সহায়তাকারী পরিচয়ে চাঁদাবাজী।
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক:
১০/১২ বছর বয়স থেকে নিজ বাড়ি ও এলাকা থেকে বিতাড়িত। পরে কয়েক বছর ঢাকায় বাসে হেলপারি ও বিভিন্ন পত্রিকা অফিসের হকারের কাজ করতেন। ২০০০ সালের পরে সাতক্ষীরা এসে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের কাছ থেকে বাটপারি ও ভন্ডামি করে টাকা হাওলাদ নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যেত। বিভিন্ন যন্ত্রণা থেকে নিজেকে বাঁচাতে পত্রিকার সাথে যুক্ত হন। প্রথমে সাপ্তাহিক মুক্তআলাপ নামের একটি পত্রিকার হকারির মাধ্যমে সংবাদপত্র জগতে তার হাতে খড়ি হয়। এরপর মুক্তআলাপ নামক পত্রিকায় কাজ করা কালিন সময়ে একটি পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে কিছু কবিতা ও অসংলগ্ন সংবাদ প্রকাশ করে মামলার জালে জড়িয়ে পড়েন। তার পরে আশ্রয় নেন দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকায় সেখানে ভোর ৬ টা থেকে খাওয়ার সময় বাদে রাত ১০ পর্যন্ত হকারির কাজ করতেন। বিভিন্ন জায়গায় পত্রিকা পৌছে দিতেন। তবে সেখানেও বেশি দিন টিকতে পারেনি। পরে কিছু ভূইফোঁড় পত্রিকার প্রতিনিধি হয়ে একটি গ্রুপ করে ২/৩ টি মটর সাইকেল নিয়ে দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছুটে বেড়িয়ে যত টুকু ভিক্ষা পেত সবাই ভাগ বাটোয়ারা করে নিতো। এমনই একজন ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে যার নাম মোঃ শাহ আলম, পিতা- আলহাজ্ব শাহাদাৎ মোড়ল, সাং- পলাশপোল, সাতক্ষীরা। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা সংবাদ নামক একটি পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক।
সূত্র জানায়, সাতক্ষীরার সাবেক এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবি’র ডিও লেটারে ও সাতক্ষীরা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি হিসাবে প্রত্যয়ন পত্র দিয়ে তার মালিকানাধীন সাতক্ষীরা সংবাদ পত্রিকাটির ডিক্লিয়ারেশন নেন। পত্রিকার ডিক্লিয়ারেশন/ছাড়পত্র নেওয়ার জন্য যে সকল অভিজ্ঞতা সনদ ও কাগজপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও কোন রকম নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তিনি পত্রিকার মালিক হয়েছেন বলে জানা গেছে। সাবেক আওয়ামীলীগের এমপি’র ডিও লেটার ও সাতক্ষীরা পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি হিসাবে তৎকালিন আ’লীগ নেতাদের কাছ থেকে প্রত্যয়ন নিয়ে ও অর্থের বিনিময়ে পত্রিকার ছাড়পত্র পেয়েছেন। শাহ আলম নামের এই ব্যক্তি পত্রিকা কে পুজি করে বর্তমানে জেলা ব্যাপী চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধেও চক্রান্ত করে চলেছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে পত্রিকার বিরুদ্ধে চক্রান্ত হচ্ছে এমন একটা আবেদন করেন। আবেদনে তিনি লেখেন মোঃ শাহ আলম, পিতা আলহাজ্ব শাহাদাৎ মোড়ল, সাং- পলাশপোল, সাতক্ষীরা। আমি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঢাকা এর সাতক্ষীরা জেলার স্বাক্ষী সহায়তাকারী ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং সদ্য অনুমোদিত দৈনিক সাতক্ষীরা সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দাম্ভিকতার সাথে জেলা ব্যাপি দাপিয়ে বেড়াতো সে আস্ফালন করে বলতো আমার কেউ কিছু করতে পারবেনা আমি খুলনা শেখ পরিবারের লোক।
সূত্র আরো জানায়, আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে “সাতক্ষীরা সংবাদ” এর নামধারী সম্পাদক জেলা ডিসি, পুলিশ কর্মকর্তা কাউকে থোড়ায় কেয়ার করতোনা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঢাকা এর সাতক্ষীরা জেলার স্বাক্ষী সহায়তাকারী ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সহ-সভাপতি পরিচয়ে অপরাধ চক্র গড়ে তোলে তার এই অপরাধ সহযোগীতা করতেন তৎকালীন আইজিপি অব যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সানাউল হক। বর্তমানে পত্রিকাটি অনলাইন একটি পেজ নির্ভর। সপ্তাহে দুই,তিন দিন প্রকাশ করে। উদ্দেশ্যমূলক ভাবে সংবাদ প্রকাশ করে চাঁদাবাজির জন্য। নিয়মিত প্রকাশ করে না।
এদিকে, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পরিচয় ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঢাকার স্বাক্ষী সমন্বয়ক পরিচয়ে সাতক্ষীরা জেলা ব্যাপী নিরীহ ও বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষদের রাজাকার আখ্যা দিয়ে শত শত মানুষের কাছ থেকে নিরব চাঁদাবাজি করেছে বিগত ১৫ বছর । আর বর্তমানে পত্রিকার মালিক হয়ে পত্রিকাকে পুঁজি করে শান্ত সাতক্ষীরা কে অশান্ত করার পায়তারা চালাচ্ছে। সে আওয়ামীলীগ কে সংগঠিত করা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পত্রিকা অফিসকে আওয়ামী লীগের অফিস হিসাবে দাঁড় করিয়েছে।
অপরদিকে, দৈনিক সাতক্ষীরা সংবাদ নামক পত্রিকাটির ডিক্লিয়ারেশন বাতিল ও শাহ আলমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীতে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগীরা।
এব্যাপারে শাহ আলম বলেন,আপনারা অনুসন্ধান করে দেখেন বলে মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
আপনার মতামত লিখুন :