আয়ের তুলনায় ইজারার বোঝা বেশি, বিপাকে কালিগঞ্জের মাঝি পরিবার
News Desk (s)
প্রকাশের সময় : জুন ২, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন /
০
শেখ আহসান হাবিব, কালিগঞ্জ: কালিগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দকাটি খেয়াঘাটের বাৎসরিক ইজারার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও সেই তুলনায় আয় না থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন ঘাট পরিচালনাকারী মাঝি পরিবার। ইজারার বিপরীতে প্রতিদিনের আয় খুবই সীমিত হওয়ায় সংসার চালানো এবং ইজারার অর্থ পরিশোধ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে সরেজমিনে ঘাট এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে গোবিন্দকাটি খেয়াঘাটটি ৬৯ হাজার টাকায় ইজারা নেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রী ও পারাপারের সংখ্যা কম থাকায় প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মতো আয় হচ্ছে। এ আয় থেকে মাঝিদের পরিবার-পরিজনের ভরণ পোষণ, নৌকার রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, একসময় খেয়াঘাটটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিকল্প যাতায়াত সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে ঘাটে যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গেছে। ফলে আগের মতো আয়ও নেই। তবুও ইজারার পরিমাণ তুলনা মূলক বেশি হওয়ায় ইজারাদার ও মাঝিদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ঘাটসংশ্লিষ্টরা বলেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ আয় হয় তা দিয়ে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করাই কঠিন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ইজারার অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে অনেক সময় ঋণের আশ্রয় নিতে হচ্ছে। ফলে পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। এলাকাবাসীর দাবি, খেয়াঘাটের প্রকৃত আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবেচনা করে ইজারার মূল্য নির্ধারণ করা উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে এমন ঘাট পরিচালনায় কেউ আগ্রহ দেখাবে না এবং ঐতিহ্যবাহী এই খেয়া পারাপার ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে ইজারার হার পুনর্বিবেচনা করা হলে একদিকে যেমন মাঝি পরিবারের জীবন-জীবিকা রক্ষা পাবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্যও খেয়াঘাট সেবা সচল রাখা সম্ভব হবে।
আপনার মতামত লিখুন :