দালাল ছাড়া ফাইল নড়ে না- ভূমি নায়েব মাসুমার সিন্ডিকেটে জিম্মি কুশখালীবাসী!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১০, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ন /
দালাল ছাড়া ফাইল নড়ে না- ভূমি নায়েব মাসুমার সিন্ডিকেটে জিম্মি কুশখালীবাসী!

বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক :​সাতক্ষীরা সদরের কুশখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিস এখন দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মাসুমা সুলতানার প্রত্যক্ষ মদদে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী ঘুষ সিন্ডিকেট। দালালের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে নামজারি ও খাজনা আদায়ের নামে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ওই অফিসে অভিযান চালিয়ে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পেলেও দমে যাননি সংশ্লিষ্টরা।স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কুশখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কোনো সেবাগ্রহীতা সরাসরি নামজারি বা খাজনা দিতে গেলে নায়েব মাসুমা সুলতানা তাঁদের ফিরিয়ে দেন। তিনি সেবাগ্রহীতাদের সরাসরি নির্দেশ দেন ব্যক্তিগত দালাল সবুরের সাথে যোগাযোগ করতে।অনুসন্ধানে জানা যায়, একটি নামজারি করতে সরকারি ফি’র কয়েক গুণ বেশি অর্থাৎ ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা দাবি করেন সবুর। এমনকি মাত্র ১০০ টাকার খাজনা কাটতে সেবাগ্রহীতাকে গুনতে হয় ৫০০ টাকা। অতিরিক্ত টাকার কারণ জানতে চাইলে সবুর অকপটে জানান, “নায়েব সাহেব যা বলেছেন, আমি সেই টাকাই নিচ্ছি।নায়েব মাসুমা সুলতানার বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর অফিস সময় নিয়ে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে অফিস করার কথা থাকলেও তিনি অফিসে আসেন বেলা ১২ টার দিকে। অভিযোগ রয়েছে, দিনের শেষভাগে এসে কেবল ঘুষের টাকা ও দালালের মাধ্যমে আসা ফাইলগুলো বুঝে নিয়ে তিনি দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন।এসব অভিযোগের বিষয়ে মাসুমা সুলতানার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি দালালের মাধ্যমে কাজ করার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, “অনেকে নিজেরা নামজারি করতে আসে না, সবুরের কাছে দেয়। তাই সবুর আমাদের কাছে ফাইল দেয় আর আমরা কাজ করে দেই।ভূমি কর্মকর্তাদের এই দাবি সম্পূর্ণ বেআইনি। বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী সরকারি সেবা প্রদানে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা দালালের সহায়তা নেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ, সেবাগ্রহীতা নিজে উপস্থিত না থাকলে বৈধ প্রতিনিধি বা আমমোক্তারনামা (Power of Attorney) প্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ ফাইল জমা দিতে পারেন না।সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে এক টাকা লেনদেনও ‘দুর্নীতি দমন আইন-২০০৪’ এবং ‘দণ্ডবিধি ১৮৬০’ এর ১৬১ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে দালালের ওপর নির্ভরশীল হওয়া পেশাগত অসদাচরণের শামিল।​উল্লেখ্য , কুশখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষের বিনিময়ে নামজারি ও হোল্ডিং খোলার অভিযোগ পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জেলা কার্যালয়, খুলনা থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হয়েছিল। দুদকের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ছদ্মবেশে পরিচালিত সেই অভিযানে দুইজন কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। দুদক টিম নথিপত্র সংগ্রহ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।​দুদকের এই অভিযানের পরও নায়েব মাসুমা সুলতানা ও তাঁর দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। দ্রুত এই অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কুশখালীবাসী।