
বিশেষ প্রতিনিধিঃ গণমাধ্যমে সচিত্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরও ঘুম ভাঙেনি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা ড্রাগ প্রশাসনের। কদমতলা হাটের ‘মেসার্স রহমান ফার্মেসি’তে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের রি-লেবেলিং জালিয়াতি এবং কাশেমপুর জামতলার ‘এম আর ব্রিকস’-এ বিষাক্ত বর্জ্য পোড়ানোর মহোৎসব এখনো সমানতালে চলছে।আইন অমান্যের সব রেকর্ড ভেঙে শেখ নাসিম আলী ও মিজানুর রহমান ডাবলু সিন্ডিকেট জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ গিলে খেলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের রহস্যজনক নীরবতা এখন খোদ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই জনমনে নানা প্রশ্ন তুলছে। সচেতন মহলের সরাসরি প্রশ্ন“প্রশাসন কি তবে সত্যিই এই সিন্ডিকেটের কাছে ‘ম্যানেজ’ হয়ে গেছে?”ধোঁয়া ছড়াচ্ছে অবৈধ ইটভাটা, চলছে ওষুধের জালিয়াতি সরেজমিনে অনুসদ্ধানে দেখা গেছে, সংবাদ প্রকাশের পরও বিন্দুমাত্র দমে যায়নি এই চক্র।দুই দুইবার জেলা প্রশাসনের অভিযানের মুখে পড়া, মোট ৩/৬ লাখ টাকা জরিমানা এবং সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ পাওয়া এই ইটভাটায় আজও দিন-রাত পুড়ছে বনের কাঠ ও টায়ারের বিষাক্ত বর্জ্য। প্রশাসনের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কালো ধোঁয়ায় অন্ধকার করা হচ্ছে কাশেমপুরের আকাশ। এদিকে লাইসেন্সবিহীন রহমান ফার্মেসির দোতলায় বহাল তবিয়তে চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের গায়ে ভুয়া সিল ও লেবেল লাগানোর কাজ। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছে এই ‘বিষ’ পৌঁছে দেওয়ার চক্রান্ত থামেনি একটুও। নাসিম ও ডাবলুর এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তাদের কাছে গেলে যারা বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন “পত্রিকায় নিউজ হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম এবার হয়তো বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে বাঁচব, প্রতারণার টাকা ফেরত পাব। কিন্তু প্রশাসন কোনো অ্যাকশন না নেওয়ায় এই সিন্ডিকেটের দাপট আরও বেড়ে গেছে। তারা এখন বুক ফুলিয়ে বলছে টাকা থাকলে প্রশাসন পকেটে থাকে’।”শুধু পরিবেশ আর জনস্বাস্থ্যই নয়, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ আরও তীব্র হচ্ছে। ইট দেওয়ার নাম করে শত শত গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া অগ্রিম লাখ লাখ টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। উল্টো গণমাধ্যমে নিউজ হওয়ার পর পাওনাদাররা টাকা চাইতে গেলে তাদের দেখে নেওয়ার এবং মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।২০১৮ সাল থেকে দীর্ঘ ৬ বছর লাইসেন্স নবায়ন না করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার পর, সম্প্রতি ২০২৫ সালে এসে পৌরসভাকে ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এবং কার মদদে নাসিম আলী তার লাইসেন্স ‘আপডেট’ করলেন তা নিয়ে এখন এলাকায় তুমুল আলোচনা চলছে। বিশাল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির পেছনে পৌরসভার কোন কর্মকর্তা জড়িত, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।একটি অবৈধ ইটভাটা ও ভুয়া ওষুধের কারখানার বিরুদ্ধে সব ধরনের প্রমাণ থাকার পরও কেন যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে না, তা নিয়ে সাতক্ষীরাবাসীর ক্ষোভ এখন চরমে।এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসন, ড্রাগ প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারাও ‘বিষয়টি দেখছি’ বা ‘আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে’জাতীয় চর্বিতচর্বণ ও আশ্বাসমূলক মন্তব্য করেই দায় সারছেন। বাস্তবে মাঠে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি।এদিকে নাগরিক নেতারা বলছেন টাকার জোরে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো শেখ নাসিম আলী ও মিজানুর রহমান ডাবলুর এই বিষাক্ত সাম্রাজ্য অবিলম্বে গুঁড়িয়ে দেওয়া না হলে, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ ও ভুক্তভোগীরা বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবেন।
আপনার মতামত লিখুন :