
——-:——-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলেই সাংবাদিকদের গলা টিপে ধরা হয়?
সাতক্ষীরা সীমান্তঘেঁষা একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো এই জেলাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছে। মাদক ব্যবসা, মানব পাচার, অনলাইন জুয়া, ঘুষ,দুর্নীতি এবং প্রভাবশালীদের নানা অপকর্ম নিয়ে প্রায়ই আলোচনা শোনা যায়। এসব নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হলেই দেখা যায় এক অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে অনেক সময় উল্টো সাংবাদিকদেরই চাপে ফেলার চেষ্টা শুরু হয়।একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা হলো অন্যায় ও অনিয়ম তুলে ধরা। সাংবাদিকরা সমাজের আয়না। তারা যা দেখেন, যা জানেন, জনগণের স্বার্থে সেটিই প্রকাশ করেন। কিন্তু যদি দুর্নীতি, ঘুষখোর সিন্ডিকেট, মাদক কারবারি, মানব পাচারকারী কিংবা অনলাইন জুয়ার গডফাদারদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলেই সাংবাদিকদের হুমকি, চাপ বা হয়রানির মুখে পড়তে হয়।তাহলে সেটি শুধু সাংবাদিকতার ওপর আঘাত নয়, গণতন্ত্রের ওপরও আঘাত।সাতক্ষীরায় প্রায়ই দেখা যায়, কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর মূল অভিযোগের তদন্ত বা সত্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগের বদলে ভিন্ন দিকে দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করা হয়। কখনো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, কখনো চাপ সৃষ্টি, আবার কখনো সংগঠন বা প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে তাদের নীরব করানোর চেষ্টা করা হয়। এতে করে প্রশ্ন জাগে কার স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে?একটি সুস্থ সমাজে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার কাজকে উৎসাহিত করার কথা। কারণ সাংবাদিকরা যে তথ্য সামনে আনেন, তা প্রশাসনের জন্যও সহায়ক হতে পারে। দুর্নীতি বা অপরাধের তথ্য প্রকাশিত হলে সেটি তদন্ত করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু যদি সংবাদ প্রকাশকেই অপরাধ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে দুর্নীতিবাজদেরই পরোক্ষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়।সাতক্ষীরার গণমাধ্যমকর্মীরা বহু সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কাজ করেন। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নানা ধরনের অপরাধ চক্র সক্রিয় থাকায় তাদের ঝুঁকিও কম নয়। তবুও তারা জনগণের স্বার্থে তথ্য তুলে ধরেন। সেই সাহসী ভূমিকার পরিবর্তে যদি তাদের গলার টুটি ধরার চেষ্টা করা হয়, তবে সেটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।প্রশাসন ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর মনে রাখা উচিত সাংবাদিকদের দমন করে কখনোই সত্যকে থামানো যায় না। বরং এতে করে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। তাই প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ। কোনো অভিযোগ উঠলে সেটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা উচিত, সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে নয়।সাতক্ষীরার মানুষ চায় দুর্নীতি ও অপরাধমুক্ত একটি সমাজ। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ নয়, বরং সহযোগী হিসেবেই দেখা উচিত। অন্যথায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই দুর্বল হবে, আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণই।সত্য প্রকাশের কলম থামিয়ে রাখা যায় না,ইতিহাস সেটিই বারবার প্রমাণ করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :