আশাশুনিতে এসিল্যান্ড বিজয় কুমার জোয়ার্দারের বিরুদ্ধে স্ত্রীর নারী নির্যাতন মামলা


News Desk (s) প্রকাশের সময় : মার্চ ৫, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ন /
আশাশুনিতে এসিল্যান্ড বিজয় কুমার জোয়ার্দারের বিরুদ্ধে স্ত্রীর নারী নির্যাতন মামলা
আশাশুনি সংবাদদাতা: আশাশুনিতে ভূমিসহকারী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিজয় কুমার জোয়ার্দার সহ তার ফ্যামিলির ৫ জনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করেছে তার স্ত্রী মাগুরা জেলার মাগুরা থানার মালন্দ অঞ্জুরপাড়া গ্রামের গোপাল সরকারের মেয়ে মুক্তি সরকার (৩৫)। আশাশুনি থানায় মামলা নং (২) ০৪/০৩/২০২৬ ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধনী-০৩) এর ১১(গ)/৩০ তৎসহ ৩১৩/৫০৬ পেনাল কোড ১৮৬০।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এক নম্বর আসামি আশাশুনি উপজেলার ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার ছোনগাছা গ্রামের পরিমল কুমার জোয়ার্দারের ছেলে বিজয় কুমার জোয়ার্দার (৩৭), পরকীয়ার প্রেমিক দ্বিতীয় স্ত্রী ফাগুনী সুমি কাসারী (অনুমান-২৫), এসিল্যান্ডের মা উষা রাণী জোয়ার্দার (৬৫) ও পিতা পরিমল কুমার জোয়ার্দার (৭০) এসিল্যান্ডের ভাই পরিতোষ কুমার জোয়ার্দার (৩২)।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে গত ইং-২৪/০৪/২০১৬ তারিখে ১নং আসামি বিজয় কুমার জোয়ার্দারের সাথে মুক্তি সরকারের কোটের মাধ্যমে বিবাহ হয়। পরবর্তীতে ইং-০৮/১০/২০২২ তারিখে হিন্দু রীতিনীতি অনুসারে পারিবারিক ভাবে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। সেই সময় তারা দুজনই একসঙ্গে পড়াশোনা করতেন। বিজয় কুমার জোয়ার্দার একজন হতদরিদ্র জেলে পরিবারের সন্তান। বিবাহের পর মুক্তি সরকার চাকুরি করিয়া সংসারের যাবতীয় খরচ বহন করতেন এবং উপার্জিত অর্থ তার স্বামী বিজয়ের হাতে তুলে দিতেন। স্বামীর চাহিদা মোতাবেক অনিচ্ছার সত্ত্বেও মুক্তি সরকারের পরিবারের পক্ষ হইতে তাকে যৌতুক বাবদ স্বর্ণালংকার (আংটি ২টি, গলার চেইন ১টি) টিভি ১টি, ফ্রিজ ১টি সহ বিভিন্ন ফার্নিচার যাহার আনুমানিক মূল্য-৬,০০,০০০/- টাকা প্রদান করে। এছাড়াও তাকে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা করে। তার সত্ত্বেও বিভিন্ন তারিখে মুক্তির পিতা মাতার নিকট তার নিজ গ্রামে ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য ৫০,০০,০০০/- টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করে। যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় বিজয় বিভিন্ন সময়ে মুক্তির উপর শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। এক পর্যায়ে সংসার নির্বাহ করতে থাকা অবস্থায় স্ত্রী মুক্তি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। কিন্তু স্বামী বিজয় কুমার জোয়ার্দার সন্তান নিতে চায় না বিধায় সে বার বার মুক্তিকে বিভিন্ন অজুহাতে গর্ভপাত করার জন্য চাপ দিতে থাকে। গত ইং-২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসের দিকে মুক্তির অনিচ্ছা সত্তেও সে স্থানীয় চিকিৎসক দ্বারা তার গর্ভপাত ঘটায়। এরপরেও কয়েক দফায় সে মুক্তির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে। এক পর্যায়ে মুক্তি গর্ভ ধারণে জটিলতার সম্মুখীন হই। বর্তমানে মুক্তি গর্ভধারণ করতে না পেরে সন্তান ধারণের লক্ষ্যে স্বামীর পরামর্শে ভারতের চেন্নাই গিয়া চিকিৎসা করেন। সে নিজেও তার সাথে চেন্নাই গিয়া সন্তান ধারণের চিকিৎসা করাইবে বললে বিভিন্ন ছলচাতুরি করে চেন্নাই যায়নি রবং স্ত্রী মুক্তির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। গত ইং-১৯/০২/২৬ তারিখ থেকে সে মুক্তির ফোনও রিসিভ করে না। মুক্তি সরকারের প্রতি খুবই উদাসীন এবং মোবাইলে বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘক্ষণ ব্যস্ত থাকায় তার খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারে সে ২নং আসামী পরকীয়ার প্রেমিক ফাগুনি সুমি কাসারী নামের একটি মেয়ের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে এবং তাহার সাথে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি মুক্তিকে না জানিয়ে তার স্বামী ২নং আসামিকে বিবাহ করেছে মর্মে জানতে পারে। গত ইং-১৯/০২/২০২৬ তারিখ রাত ৩টার দিকে ২নং আসামি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মুক্তিকে অবগত করে যে, বিজয় কুমার জোয়ার্দার তাহার স্বামী এবং আরও বলে বিজয়কে ছেড়ে চলে যেতে। মুক্তি তার কথার প্রতিবাদ করলে আরো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
গত ইং-২৩/০২/২৬ তারিখ মুক্তি চেন্নাই থেকে বাংলাদেশে এসে বর্তমান আশাশুনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সরকারী বাসভবনে অবস্থান করছে। মামলার বিবরণে আরো জানা গেছে, বিজয় কুমার জোয়ার্দারের সাথে সংসার করতে হলে তার নিজ গ্রামে ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য ৫০,০০,০০০/- টাকা যৌতুক দিতে হইবে। যৌতুকের টাকা নাদিতে পারলে সংসার করতে পারবি না। যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বিজয় কুমার জোয়ার্দার তাকে গত ইং-২৪/০২/২৬ তারিখে সকাল ৮টার দিকে বাম চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল ঘুষি মারিয়া নিলা ফোলা জখম করে। এছাড়া মুক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। তর আর্তনাদ ও ডাকচিৎকারে পার্শ্ববর্তী মানিক খালি গ্রামের রিপন মন্ডল (৩৮), নাইটগার্ড মামুন হোসেন (২৮), আনন্দ সরকার (৬৬), ডিউটিরত আনসার সদস্যগণ দ্রুত এসে আমাকে গুরুতর জখম প্রাপ্ত অবস্থায় উদ্ধার করে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স-এ ভর্তি করেন।