​আশাশুনির বাঁকড়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ৪ বিঘা জমি বেচাকেনার চেষ্টা: বর্তমান সাতক্ষীরা পত্রিকায়  সংবাদ প্রকাশে প্যান্টল শ্রীঘরে!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ন / ০
​আশাশুনির বাঁকড়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ৪ বিঘা জমি বেচাকেনার চেষ্টা: বর্তমান সাতক্ষীরা পত্রিকায়  সংবাদ প্রকাশে প্যান্টল শ্রীঘরে!

বিশেষ প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের বাঁকড়া মৌজায় এক মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির প্রায় ৪ বিঘা জমি গোপনে বিক্রি করার পাঁয়তারা পণ্ড হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়  বর্তমান সাতক্ষীরা পত্রিকায় অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রতারক চক্রের মূল হোতা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল ইসলাম ওরফে প্যান্টল।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আরিফের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মোঃ আজিজুল ইসলাম (৪৫) বাঁকড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক সরদারের ছেলে এবং আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে তাঁকে আশাশুনি থানার ২৪ নম্বর মামলায় (তারিখ ২৩/০৬/২০২৬ সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ এর বিভিন্ন ধারায়) সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁকড়া মৌজার এসএ ২৪২ নম্বর খতিয়ানের (পূর্ব জেএল ২৬, বর্তমান জেএল ০৯) প্রায় ৪ বিঘা জমির মূল মালিক আসাদুজ্জামান মিঠু দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন। নিজের সম্পত্তি রক্ষা বা বেচাকেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মানসিক বা আইনি সক্ষমতা তাঁর নেই। অভিযোগ ওঠে মিঠুর মানসিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাঁর ছোট ভাই আরিফুজ্জামান লিটু এবং ভূঁইফোঁড় জমি কারবারি আজিজুল ইসলাম প্যান্টল যোগসাজশ করে জমিটি হাতিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেন।অনুসন্ধানে দেখা যায়, আইন অনুযায়ী মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির সম্পত্তি আদালত কর্তৃক অভিভাবক (গাজিয়ান) নিয়োগ ব্যতিরেকে বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি হলেও জমিটি বিক্রির জন্য ইতোমধ্যে ১৫ লাখ টাকার গোপন চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল। চুক্তির শর্তানুসারে মধ্যস্থতাকারী আজিজুল ইসলাম প্যান্টল ৫ লাখ এবং ছোট ভাই আরিফুজ্জামান লিটু ১০ লাখ টাকা ভাগ বাটোয়ারা নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এমনকি প্রবাসী আলতাফ ও তাঁর ভাই আবুল হোসেনকে ক্রেতা বানিয়ে ইতোমধ্যেই বায়নাপত্র সম্পন্ন করা হয়েছিল।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে সাতক্ষীরার দক্ষিণ কাটিয়া সরকারপাড়ার প্রসংগত প্রয়াত অহিদুজ্জামানের দুই ছেলে আসাদুজ্জামান মিঠু ও আরিফুজ্জামান লিটু। লিটু ইতোমধ্যে মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত নিজের ৪ বিঘা জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই আজিজুল ইসলাম প্যান্টলের মাধ্যমেই মিঠুর বোনের জমিও অত্যন্ত গোপনে ও নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করানো হয়েছিল।এ বিষয়ে মিঠু ও লিটুর মামা আব্দুস সবুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন মিঠু তো ভালো-মন্দ কিছুই বোঝে না। আর লিটু পরিবারের বা অভিভাবকদের কোনো কথাই শুনছে না।ভূঁইফোঁড় প্যান্টলের বিরুদ্ধে এলাকায় এর আগেও একাধিক জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয়দের দাবি, গত দুই বছরেই তিনি রহস্যজনকভাবে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বিঘা জমির মালিক বনে গেছেন যা নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।সংবাদের সত্যতা যাচাই করতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে আরিফুজ্জামান লিটু ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন আমি আমার জমি বিক্রি করছি তাতে আপনাদের কী? এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। অন্যদিকে প্যান্টল দালালির বিষয়টি স্বীকার করলেও হঠাৎ অঢেল সম্পত্তির মালিক হওয়ার প্রশ্নে কোনো সদুত্তর না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।অবশেষে বর্তমান সাতক্ষীরা পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপে দালাল আজিজুল ইসলাম প্যান্টল গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।