
মোঃ খলিলুর রহমান:
রোগীদের চিকিৎসাসেবার জন্য থাকা প্যাথলজি ও অপারেশন থিয়েটার (ওটি) বিভাগে প্রয়োজনীয় জনবল, সরঞ্জাম ও নথিপত্রের ঘাটতির অভিযোগে তালা উপজেলার পাটকেলঘাটার স্বাগতা ক্লিনিক সিলগালা করেছেন সিভিল সার্জন সাতক্ষীরা। একই সঙ্গে ক্লিনিকের ম্যানেজার অরুণ কুমার মন্ডলকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালামের নেতৃত্বে ক্লিনিকটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান, মেডিকেল অফিসার (সিএস) ইসমত জাহান সুমনাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ক্লিনিকটির হালনাগাদ বৈধ লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। সেখানে কোনো রেজিস্টার্ড চিকিৎসক বা ডিপ্লোমাধারী নার্সও পাওয়া যায়নি। প্যাথলজি বিভাগে অনুমোদিত টেকনিশিয়ান না থাকার পরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছিল বলে কর্মকর্তারা জানান। এমনকি ম্যানেজার অরুণ কুমার মন্ডল নিজেই প্যাথলজির বিভিন্ন পরীক্ষা করতেন। তাঁর কোনো সরকারি সনদ বা প্রশিক্ষণ নেই বলেও অভিযানের সময় তিনি স্বীকার করেছেন বলে কর্মকর্তারা জানান।
এছাড়া অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শনে অ্যানেস্থেশিয়া মেশিনসহ প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জাম ও অবকাঠামো ছিল না। অস্ত্রোপচারের রেজিস্টার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করা এবং অস্ত্রোপচারের পর রোগী পর্যবেক্ষণের জন্য পৃথক ব্যবস্থাও ছিল না।
এসব অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে ক্লিনিকটির ওটি ও প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে সিলগালা করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহির্বিভাগ ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন অফিস।
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ক্লিনিকটিতে স্বাস্থ্যসেবার নামে রোগীদের জীবনঝুঁকিতে ফেলার মতো অনিয়ম পাওয়া গেছে। এ কারণে ওটি ও প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, ক্লিনিকটিতে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওটি ও প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ম্যানেজার অরুণ কুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পাটকেলঘাটা থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :