দুই লাখ টাকার বিনিময়ে জাল দলিলে নামজারি, নেপথ্যে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রনি কুমার পাল!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন /
দুই লাখ টাকার বিনিময়ে জাল দলিলে নামজারি, নেপথ্যে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রনি কুমার পাল!

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুই লাখ টাকার বিনিময়ে একটি জাল দলিলের মাধ্যমে জমির নামজারি (খারিজ) করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সদর ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রনি কুমার পালের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে রনি পালের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুদ্দোজা এবং নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকার।অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই সিন্ডিকেট মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জাল দলিলের নামজারি, খাজনা দাখিলা প্রদান ও ভুয়া প্রতিবেদন তৈরির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। তাদের ঘুষের চাহিদা পূরণ না হলে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা ভূমি কার্যালয় থেকে কোনো সেবা পেতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি দুই লাখ টাকার বিনিময়ে একটি জাল দলিলে নামজারি অনুমোদনের সত্যতা মেলে অনুসন্ধানে।ঘটনার সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, সদর সাব-রেজিস্ট্রার রিপন মুন্সীর স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া দলিল তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত জাল দলিলের ভিত্তিতে নামজারির আবেদন করা হলে, তা প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য সদর এসিল্যান্ড কার্যালয়ে পাঠান উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রনি কুমার পাল। তৎকালীন এসিল্যান্ড বদরুদ্দোজা কাগজপত্র সঠিক না থাকা সত্ত্বেও নামজারিটি মঞ্জুর করেন।অভিযুক্ত চক্রটির সহায়তায় কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরের এক বাসিন্দা সদরের একটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের জমির জাল দলিলের (নং ২৪/২০২৪) নামজারি করিয়ে নেন। তবে পরবর্তীতে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উক্ত দলিলের বিষয়ে তল্লাশি (সার্চ) দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট বালাম বইয়ে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে দলিলটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল।এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাগরিক নেতা অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, “সদর ভূমি অফিসে জাল দলিলের মাধ্যমে নামজারি করার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিগত ছয় মাসে বদরুদ্দোজা, শর্মিষ্ঠা ও রনি পাল সিন্ডিকেট অর্থের বিনিময়ে অসংখ্য অনিয়ম ও অনিয়মিত কাজ সম্পন্ন করেছে। অসাধু উপায়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র।অভিযোগের বিষয়ে জানতে সদরের সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুদ্দোজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাল দলিলের প্রশ্নটি এড়িয়ে যান এবং মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।অভিযুক্ত উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রনি কুমার পাল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নই। দয়া করে আমার নামে সংবাদ প্রকাশ করবেন না।জাল দলিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি অফিসে গিয়ে কথা বলার প্রস্তাব দেন।এদিকে ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।