
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ ওরফে ‘মু রশিদ’কে ‘চিটার ও বেজন্মা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেন। সম্প্রতি আব্দুর রশিদ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে মোবাইলের ডিসপ্লের উপরে থাকা একটি পিকচার স্ক্রিনশট দিয়ে পোস্ট দেন। সেই পোস্টের মন্তব্য ঘরে (কমেন্ট বক্সে) আমজাদ হোসেন এমন কড়া মন্তব্য করেন। বিষয়টি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, মু আব্দুর রশিদ দীর্ঘদিন জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, নজরুল ইসলামকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে তিনি গাছের টেন্ডার, খেয়াঘাটের ইজারা ও বিভিন্ন সমাজসেবামূলক অনুদান নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং এসব খাত থেকে মোটা অংকের কমিশন হাতাতেন। এছাড়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একপ্রকার তাঁর নিয়ন্ত্রণেই চলত জেলা পরিষদ। গত ১০ বছরে বিভিন্ন টেন্ডার ও ইজারার নামে তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান। তবে এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা পাননি তাঁরা।ভুক্তভোগীদের বিবরণ থেকে জানা যায় একের পর এক জালিয়াতির চিত্র। শ্যামনগরের আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, “নওয়াবেঁকী খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার নামে রশিদ আমার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা অগ্রিম ঘুষ নেন। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ ৫ লাখ টাকা দেওয়ায় ঘাটটি তাদের পাইয়ে দেওয়া হয়। পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আমাকে পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়। তৎকালীন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে বিষয়টি জানালেও আমি কোনো বিচার পাইনি।”আশাশুনির অপর ভুক্তভোগী মিরাজ কবির জানান, ঘোলা খেয়াঘাটের ইজারা পাওয়ার পরও আব্দুর রশিদকে ১ লাখ টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি কাগজপত্র আটকে রেখেছিলেন। দীর্ঘ এক মাস অফিসের কর্মচারীদের দিয়ে ঘোরানোর পর বাধ্য হয়ে টাকা দিলে কাগজপত্র হাতে পান মিরাজ।একইভাবে সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর এলাকার আবুল কালাম জানান, গাছের টেন্ডারে তিনি নিয়ম মেনে ব্যাংক ড্রাফটসহ সিডিউল জমা দিয়েছিলেন। তবে আব্দুর রশিদ তাঁর লোকবল দিয়ে তাঁকে সিডিউল তুলে নেওয়ার হুমকি ও অপমান করেন, যার ফলে তিনি বাধ্য হয়ে সিডিউল তুলে নেন।এছাড়া সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের টেন্ডার বাণিজ্যেও আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যুবলীগ কর্মীদের দিয়ে টেন্ডার ক্রয় করিয়ে পরবর্তীতে তৎকালীন সংসদ সদস্য রবির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সেই টেন্ডার উঠিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও কলারোয়া এলাকার নেতা আমজাদ হোসেন বলেন, “মুচি রশিদ একজন প্রতারক। জেলা পরিষদের নির্বাচনের সময় আমার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে সে আর ফেরত দেয়নি। জেলা পরিষদের সদস্য না হয়েও সে পদপ্রভাব দেখিয়ে সব টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করত। এ ধরনের দালাল ও প্রতারককে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।”অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :