শেখ আহসান হাবিব, কালিগঞ্জ: কালিগঞ্জের নলতায় টিসিবির পণ্য বিতরণে ডিলার নেওয়ার জন্য আবেদন করেছে ৩ জন। কিন্তু আবেদনকারীর মধ্যে যাদের কোন দোকানই নেই, তারাই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এবং ভুয়া দোকান দেখিয়ে ডিলার নেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে ও তথ্যসূত্রে জানা গেছে, নলতায় আবেদনকারীদের মধ্যে প্রকৃত মুদি দোকান আছে মুনজুর আলম নামের ব্যক্তির । যার মুদি দোকানের নাম মঞ্জুর স্টোর। যে স্টোরটি নলতা হাটখোলায় সড়কের সাথেই অবস্থিত। এবং হাটখোলার মধ্যে এই বড় দোকানটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষে উপজেলা আইটি অফিসার ইতিপূর্বে তদন্ত করেছেন।
অপর দুই আবেদনকারী আবু বক্কর সিদ্দিক ও রমজান আলী।
অভিযোগ আছে, আবু বক্কর সিদ্দিক মূলত একজন ভ্রাম্যমান পাসপোর্ট ও ভিসার কাজে পরিচিত। সমগ্র নলতার মধ্যে তার কোন মুদি দোকানই নেই। তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ডিলার নেওয়ার জন্য অন্যের দোকানকে নিজের দোকান দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নলতায় হেমন্ত পালের দোকানের পাশে ইয়াকুব আলীর মধুবন এন্টারপ্রাইজ নামক দোকানটি নিজের মুদিখানার দোকান হিসেবে দেখিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
অপর আবেদনকারী রমজান আলী বর্তমান টিসিবির ডিলার হিসেবে কাজ করে। নলতা হাইস্কুলের উত্তর পাশে একটি গুদাম ঘরে টিসিবির পণ্য রেখে সেখান থেকে বিতরণ করে। রাশেদ ট্রেডার্স নামক সেই গুদাম ঘরকেই রমজান আলী আবেদনে মুদির দোকান দেখিয়েছে, যেটা বাস্তবে ভিন্ন চিত্র।
এভাবে নলতায় প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ী বা মুদি দোকানকে আড়াল বা বঞ্চিত করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে, যাদের কোন মুদি দোকানই নেই এবং প্রকৃতপক্ষে ব্যবসায়ী নন, তারা এখন টিসিবির ডিলার নেওয়ার জন্য দৌড়ঝাপে ব্যস্ত বলে জানা গেছে । এসব বিষয় নিয়ে অভিযুক্তদের সাথে কথা বললে তারা কোন সদুত্তর দেন নি। জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে নলতার আবেদনকারীদের অনিয়মের বিষয়গুলো তদারকি করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ীকেই টিসিবির ডিলার দিলে, গ্রাহকদের মধ্যে সুষ্ঠু বন্টন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত হবে বলে দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন :