চা-ব্যবসার আড়ালে চুরি,ডাকাতি, মৎস্য ঘের লুটপাট, টিকেটে ইব্রাহিম মোল্লা এখন মাদক সম্রাট


News Desk (S) প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ন / ০
চা-ব্যবসার আড়ালে চুরি,ডাকাতি, মৎস্য ঘের লুটপাট, টিকেটে ইব্রাহিম মোল্লা এখন মাদক সম্রাট
স্টাফ রিপোর্টার হাবিব: দিনে চায়ের ব্যবসা, রাতে মাদকের রমরমা ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি, মৎস্য ঘের লুটপাট, ইব্রাহিম মোল্লা এখন মাদক সম্রাট। সন্ত্রাসী কায়দায় রাজত্ব, ভয়ে সব চুপচাপ। প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে, আতঙ্কে এলাকাবাসী।
তথ্য অনুসন্ধানে, সাতক্ষীরা জেলা দেবহাটা সুবর্ণাবাদ টেকেট এলাকায় একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাত হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিম মোল্লা। টিকেট গ্রামের মৃত ফকির আহমদ মোল্লার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে চা-ব্যবসার আড়ালে এলাকার ও বহিরাগত সঙ্গীদের নিয়ে সঙ্গবদ্ধভাবে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল সহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসা করে আসছে।
এছাড়াও ইব্রাহিম গংদের বিরুদ্ধে  জমিদখল, খালদখল, ঘের মালিকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, মৎস্য ঘের লুটপাট, চাঁদা না পেলে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ, মানুষের বাড়িতে চুরি, ডাকাতি, নারী শ্লীলতাহানি সহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
নিজ বাড়িতে, বিভিন্ন বাগানে, মৎস্য ঘেরের বাসায় দিনে ও রাতে খুচরা মাদক বিক্রিতা ইব্রাহিম মোল্লার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন। এলাকার অধিকাংশ বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের। যে কারণে শান্তি প্রিয় মানুষ জীবনের ভয়ে ইব্রাহিম মোল্লার গংদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা মুখ খুলতে সাহস পায়না।
মৎস্য ঘের লুটপাট, গরু ছাগল চুরি, মাদকের সিন্ডিকেট ব্যবসায় জড়িত রয়েছে এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে আব্দুল কাদের মোল্লা, ইব্রাহিম মোল্লা ও তার স্ত্রী রাবেয়া,মৃত খায়রুল শেখের ছেলে হারুন শেখ।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসার অর্থ দাতা ইব্রাহিম মোল্লার আপন ভাই আব্দুল জলিল মোল্লা। আব্দুল জলিল মোল্লা ফরিদপুর শহরে একজন কোচিং ব্যবসায়ী। অভিযুক্তরা সকলেই আব্দুল জলিলের আত্বীয় স্বজন এবং তাদের সে দেখভাল করে। ফরিদপুরে কোচিং ব্যবসার আড়ালে অবৈধ মাদকের ব্যবসা একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক সামাজিক ব্যাধি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। যেখানে শিক্ষার পবিত্র স্থানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ বা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন সহজে সন্দেহ না করে সেজন্য কোচিং সেন্টারের আড়ালে মাদক ব্যবসা একটা নিরাপদ স্থানকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলায় মাদকের সম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। অবৈধ মাদক ব্যবসা করে অগাধ টাকা পয়সার মালিকও হয়েছেন।
মাদক ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা সীমান্ত কে রুট হিসেবে ব্যবহার করে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মাদক প্রবেশের পাশাপাশি অন্যান্য উপজেলা ও জেলায়  বিক্রি করে। মাদকের কালো ছায়া তরুণদের স্বপ্নকে গ্রাস করে নিচ্ছে। নিভিয়ে দিচ্ছে সম্ভাবনার আলো। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ সমাজ।  তারাই দেশের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, উন্নয়নের চালিকাশক্তি ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনাময় মুখ। তবে উদ্বেগজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, সমাজের একাংশ তরুণ আজ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ফলে তাদের শিক্ষা, কর্মজীবন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তারে যুবসমাজের একটি অংশ বিপথগামী হচ্ছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এতে অনেক পরিবার সন্তানের কারণে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে খুচরা মাদক কারবারিরা ধরা পড়লেও, এই চোরাচালান চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী, ব্যাবসায়ী ও অর্থদাতা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাদকসেবীদের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি চুরি,ছিনতাই ও বেড়ে চলেছে। চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে প্রতিটি এলাকার জনসাধারণ। মাঝেমধ্যে চুরি ছিনতাই প্রতিরোধে প্রশাসনের অভিযানে চিছকে চোরদের আটক করা হলেও চিহ্নিত তালিকাভুক্ত চোর, ডাকাতরা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে, ফলে আতঙ্কে রাত্রি যাপন করতে হচ্ছে এলাকার লোকজনকে।
তথ্য সূত্রে, দেবহাটা শামীম হত্যার নং ৯/ ১৪-১০-২৬ ইং তারিখে মামলায় তিন জন আসামি গ্রেফতার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে বাকি আসামিরা। শামীম হত্যা মামলায় জড়িত টিকেট গ্রামের মৃত ফকির মোল্লার ছেলে ইব্রাহিম মোল্লা, মৃত খায়রুল শেখের ছেলে হারুন শেখ, আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে আব্দুল কাদের মোল্লা এরা সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী ও এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী।  এলাকায় চুরি -ডাকাতি, মাস্তানি, জুয়াড়ি,মৎস্য ঘেরে লুটপাট সহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এছাড়াও মাদক ব্যবসায়ী ও কুখ্যাত সন্ত্রাসী ইব্রাহিম মোল্লার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় রয়েছে একাধিক অভিযোগ। গত ১৭/১০/২৬ ইং তারিখে টিকেট গ্রামের রেকসনা পারভীন বাদী হয়ে দেবহাটা একটি অভিযোগ দায়ের ও সাধারণ ডায়রি করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় , জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ইব্রাহিম মোল্লা ও তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন, মৃত খাইরুল শেখের স্ত্রী বাচা খাতুন ও ছেলে হারুন শেখ সঙ্গবদ্ধভাবে নিকটতম প্রতিবেশী ছলেমান মিস্ত্রী কে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতির হুমকি দেয়। একপর্যায়ে ছলেমান মিস্ত্রীর উপর চড়াও হয়ে বাড়ির সামনে রাস্তায় আক্রমণ করে এলোপাথাড়ি ভাবে কিল, ঘুষি, চড়, লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখম সৃষ্টি করে। তার মেয়ে থানায় অভিযোগ করলে ইব্রাহিম গং তাদের বিভিন্ন ভয়ভীতি সহ জীবনানাশের হুমকি প্রদান করে। এব্যাপারে ছলেমান মিস্ত্রী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার সহ এলাকাবাসী সন্ত্রাসী ও মাদক সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী ইব্রাহিম গং দের অতিদ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টিকেট এলাকায় সঙ্গবদ্ধভাবে বার বার ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কোনো সুন্দরী নারী চোখে পড়লে ইব্রাহিম গং রাতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মৎস্য ঘেরের বাসায় গণধর্ষণের শিকার হয়েছে একাধিক নারী। সামান্য বিষয়ে নিয়ে কথায় কথায় গায় হাত তোলা ও বেধড়ক মারপিটের শিকার হয়েছেন এলাকার অনেক নিরীহ মানুষ।
মদ্যপানে এলাকায় দেশীয় অস্ত্র মহড়ায় এলাকায় ভীত সন্ত্রস্ত করত ইব্রাহিম গং।  এই এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনীর গডফাদার নামেও পরিচিত। প্রভাবশালী মহল,সাংবাদিক ও প্রশাসনের সাথে সখ্যতা থাকায় তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের ফিরিস্তি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানান, অধিকাংশ পুরুষরা বছরের ৬ মাসই উপজেলার বাইরে থাকেন কাজের খোঁজে। কেউ অন্য এলাকার ইটভাটায় কাজ করেন। আবার কেউ শহরে ভ্যান চালায়। ফলে নারীরা অধিকাংশ সময় একা থাকেন। ধর্ষকরা এর সুযোগ নেয়। তবে তাদের কথা,এখানে মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি ও ধর্ষণের পিছনে প্রভাবশালী মহল আছে। বছরে পর বছর ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়না। থানায় কোনো অভিযোগ হয়ও তারপরও স্বাক্ষীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হতো।
এবিষয়ে ইব্রাহিম মোল্লার মোবাইল ফোনে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি  সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং আবুল জলিল মোল্লা মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।