নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর দত্তকে  টাকা দিলেই মেলে পচা খাবারেও হাইজিন গ্রেডিং সনদপত্র !


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৩, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন /
নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর দত্তকে  টাকা দিলেই মেলে পচা খাবারেও হাইজিন গ্রেডিং সনদপত্র !

বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক : নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের আইনি আইকন হিসেবে স্বীকৃত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA)এর হাইজিন গ্রেডিং সনদপত্র পাওয়ার কথা রেস্তোরাঁ কিংবা হোটেলের খাবারের গুণগত মান, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা ও সুস্থ পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। তবে সাতক্ষীরায় চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে লাখ টাকার ঘুষ কিংবা মাসিক মাসোহারা পৌঁছালেই নোংরা ফ্রিজ, পচা মাংস আর কিডনির ডায়ালিসিস ডাই হিসেবে ব্যবহৃত রাসায়নিকযুক্ত খাবার বিক্রির লাইসেন্স মেলে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর দত্তের প্রত্যক্ষ মদদ ও যোগসাজশে পুরো জেলায় গড়ে উঠেছে একটি জঘন্য দুর্নীতি সিন্ডিকেট।অভিযোগ রয়েছে, সাতক্ষীরা শহরের ‘সাতক্ষীরা হোটেল ও রেস্তোরাঁ  সহ একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পচা মাংস ব্যবহার, ফ্রিজের ভেতরের চরম নোংরা পরিবেশ এবং খাসির মাংসের নামে বকরির মাংস বিক্রির মতো গুরুতর অনিয়ম রয়েছে। এমনকি খাবারের স্বাদ ও রঙ ধরে রাখতে কিডনি ডায়ালিসিসের কাজে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক পর্যন্ত মেশানো হচ্ছে।এসব অনিয়ম উদঘাটিত ও প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর দত্তকে লাখ টাকা ঘুষ দিলেই মেলে হাইজিন গ্রেডিং সনদপত্র ।নাম নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ হলেও সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়টি এখন ঘুষ বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও কতিপয় নামধারী মালিক সমিতি’র নেতাদের মধ্যস্থতায় জেলার হোটেল, রেস্তোরাঁ, বেকারি এবং বোতলজাত পানির কারখানাগুলো থেকে প্রতি মাসে দেদারসে তোলা হয় মোটা অঙ্কের মাসোহারা। টাকা দিলে কোনো মোবাইল কোর্ট বা অভিযানের ভয় থাকে না। ব্যবসায়ী মহলে এখন এটি ওপেন সিক্রেট।সম্প্রতি সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী সোনারগাঁ রেস্তোরাঁ’য় মরা-অসুস্থ মুরগি এবং পচা ছাগলের মাংস বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। রেস্তোরাঁটির এক কর্মচারীর ভাষ্যমতে, অভিযানের শুরুতে কর্মকর্তা দীপঙ্কর দত্ত ও তার সঙ্গীয় অফিসাররা প্রচণ্ড হাঁকডাক শুরু করেন। তবে কিছুক্ষণ পর ভেতরের কক্ষে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে মাত্র ২৫ হাজার টাকা পকেটে পুরে কোনো আইনি পদক্ষেপ ছাড়াই তারা স্থান ত্যাগ করেন।সাতক্ষীরার আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পচা মাংস ও ক্ষতিকর রাসায়নিক খাইয়ে জনস্বাস্থ্য হুমকিতে ফেলার মতো অপরাধ ধামাচাপা দেওয়া কেবল বিভাগীয় অসদাচরণ নয়, এটি একটি চরম ফৌজদারি অপরাধ। দণ্ডবিধির ১৬১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের পদের প্রভাবে অনৈতিক সুবিধা বা ঘুষ গ্রহণ করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং চাকরিচ্যুতির সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর দত্তের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ ও আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, যা পারেন তাই করেন!এই বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।নাগরিক নেতা আবুল হোসেন জানান, একজন দায়িত্বশীল প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার মুখে এমন বেপরোয়া মন্তব্য প্রমাণ করে ওপর মহলের ছত্রছায়ায় তিনি কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে উঠেছেন। সাধারণ নাগরিক ও সচেতন মহল অনতিবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে তাকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।