ব্রহ্মরাজপুর গাছ কেটে রাস্তা নির্মাণে বাঁধা দিলে প্রতিপক্ষের হা ম লায় ১ জন গুরুত্বর জ-খ-ম


News Desk (S) প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৮, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ন /
ব্রহ্মরাজপুর গাছ কেটে রাস্তা নির্মাণে বাঁধা দিলে প্রতিপক্ষের হা ম লায় ১ জন গুরুত্বর জ-খ-ম

নিত্ত দাসের নিজ বসত বাড়িতে লাগানো গাছ কেটে রাস্তা তৈরিতে বাঁধা দেওয়ায় প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় একই পরিবারের ১ জন গুরুতর জখম। ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নে দাসপাড়ায়।

এই ঘটনায় রমেশ সাতক্ষীরা সদর থানায় এজাহার করতে চাইলে থানা প্রশাসনের পরামর্শে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পত্রটি সদর থানার ওসি ধুলিহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করলে, তদন্ত না করে পক্ষপাতিত করে। ভূমিদস্যরা সন্ত্রাসী কায়দায় দফায় দফায় তাদের উপর হামলা করলে ধুলিহর ফাঁড়ির ইনচার্জকে অবহিত করলেও তিনি নিরাপত্তা না দিয়ে বলেন, এজহার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।

তথ্য সূত্রে: ব্রহ্মরাজপুর, দাসপাড়া সাম্প্রদায়িভাবে তারা ঋষি। সত্ত দাস, চিত্ত দাস, নিত্ত দাস আপন তিন ভাই তাদের পিতা শিবি দাস। শিবি দাসের মৃত্যুর পর সুবল দাসের জন্ম হয়। সুবল শিবি দাসের পুত্র সন্তান নয়। তবে মানবিক কারণে সত্ত,চিত্ত ও নিত্ত তাদের বসত ভিটায় বসবাসের সুযোগ করে দেয়। উভয় পরিবারের বসতভিটা সংলগ্ন তাদের আলাদা চলাচলে পথ রয়েছে। পাশের অন্যান্য পরিবার‌ও তাদের পথ দিয়ে চলাচল করে। অন্যদিকে তাদের পাড়া প্রতিবেশী কার্তিক পিতা সুধীর, মিলন পিতা কেশব, হরিদাসের ছেলে শংকর সহ কয়েকটি পরিবারের চলাচলের পথ বাড়ি থেকে মেইন রাস্তা অনেক দুরত্ব হওয়ায়, তারা এদের ভিটায় প্রবেশ করে নিত্ত দাসের ঘরের পাশ দিয়ে তাদের পারিবারিক রাস্তা দিয়ে মেইন রাস্তায় ওঠে । কার্তিক, মিলন ও শংকরের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা নেয়, নিত্ত দাসের ঘরের পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের। পৈত্রীক ভিটাবাড়ীর ও ক্রয়কৃত জমি জায়গা ভাগবাটোয়ারা নিয়েও সত্ত ,চিত্ত ও সুবলের সাথে নিত্ত দাসের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে । সেই শত্রুতার কারণে হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ে তাদের পরিকল্পনার সাথে যুক্ত হয। চিত্ত দাস, সুবল দাস ও তার ছেলে সপন, সত্ত দাস‌ ও তার ছেলে প্রকাশ ও আশুতোষ। তাদের সহযোগীতা করে আসছে ওয়ার্ল্ড মেম্বার হাকিম। মেম্বার দালাল প্রকৃতির। এলাকার বিভিন্ন বিরোধ বাঁধিয়ে সুবিধা হাসিল করে বলে তার বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মেম্বার হাকিম রাজনৈতিক ভাবে আওয়ামী লীগ করে।

শালিশ বৈঠকে স্থানীয় ইউপি মেম্বার হাকিম পক্ষপাতে বিচারিক নিরপেক্ষতা নষ্ট করা এক ধরণের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি, যা স্থানীয় বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। শালিশে মেম্বারের অনৈতিক কার্যকাদের রূপ কোনো এক পক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়া । প্রভাব খাটিয়ে দোষীকে বাঁচানো ও নির্দোষকে শাস্তি বা জরিমানা দেওয়া।সালিশ দীর্ঘায়িত করে উভয় পক্ষ থেকে রাজনৈতিক প্রভাবে রায় প্রভাবিত করা দালাল মেম্বারের চরিত্র।

কার্তিক, মিলন ,শংকর ,সুবল, চিত্ত, সত্ত,ও প্রকাশের পরামর্শে মেম্বার হাকিম নিত্ত দাসের লাগানো আম গাছ কেটে রাস্তা নির্মাণে নির্দেশ প্রদান করে। নিত্ত দাস পারিবারিক নিরাপত্তার কারণে বাড়ির আঙিনায় গাছ কেটে রাস্তা তৈরির অসম্মতি প্রকাশ করে। নিত্ত দাসের দুই ছেলে রমেশ দাস ও সমীর দাস। রমেশ সেলুনের কাজ করে। সমীর প্রতিবন্ধী সে তার ভাইয়ের কাজে সাহায্য করে।

ঘটনার সূত্র : ১৪ ইং আগষ্ট শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মেম্বার হাকিমের নির্দেশে রাস্তা নির্মাণ শুরু করে। তারা নিত্ত দাসের ঘর তৈরির ইট ও খোয়া ব্যবহার করে। রমেশ ও সমীর সেলুনের দোকানে ছিলো। রমেশর স্ত্রী শ্যামলী রাস্তা নির্মাণে বাঁধা দিলে কার্তিক, শংকর, মিলন, সুবল ও তার স্ত্রী, ছেলে সপন অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করে এবং এলোপাতাড়ি কিলঘুষি চড় থাপ্পড় মারে। কাঁদা মাটিতে ঢেসে ধরে বুকের খাঁচায় ও তল পেটে লাথি মারে। শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানী ও পরনে কাপড়চোপড় টেনে ছিড়ে ফেলে। সেই শাড়ি দিয়ে শ্যামলীকে গাছে সাথে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে এবং শারীরিক বিভিন্ন স্থানে লীলাফোলা জখম করে। ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। শ্যামলীর ডান হাতের আঙ্গুলে কাপড় দিয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে। সমীরের স্ত্রী গৌরী দাস ঠেকাতে আসলে তার পরনে শাড়ি টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করে এবং তাকেও বেধড়ক মারপিট করে। রমেশের স্ত্রী শ্যামলী দাস ও তার ভাবি গৌরী দাসের গলায় ও কানের স্বর্নের গহনা ছিনিয়ে নেয় । যাহার আনুমানিক বাজার মূল্য ৩ লক্ষ ১০ হাজার টাকা।

বেধড়ক মারপিটে শ্যামলী আহত হয়ে শ্বাস প্রশ্বাসে নিতে কষ্ট সাধ্য হলে এবং চেতনা হীন গুরুত্বর আহত অবস্থার খবর পেয়ে রমেশ ও সমীর ঘটনা স্থলে এসে তার স্ত্রী শ্যামলীকে দ্রুত সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে ধুলিহর ফাঁড়ির ইনচার্জ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করলেও তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি।

প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে ঐদিন রাতে ১১ টার দিকে দালাল ইউপি মেম্বার হাকিমের হুকুমে ভুমি দস্যু মিলন, কার্তিক, শংকর ও সুবলের নেতৃত্বে সত্ত দাস ও তার স্ত্রী, ছেলে প্রকাশ, আশুতোষ , সুবল দাস ও তার স্ত্রী, ছেলে সপন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে মোহড়া দিয়ে, নিত্ত দাসের লাগানো গাছ কেটে পুনরায় রাস্তা নির্মাণ শুরু করে। নিত্ত দাসের পরিবারকে জানমালের হুমকি প্রদান করে।

এদিকে প্রতিপক্ষের হামলায় শিকার সদর থানায়, রমেশের অভিযোগের তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে ধুলিহর ফাঁড়ির ইনচার্জ হাবিবুর রহমান দালাল মেম্বার হাকিমের হুকুম মান্য করে। ভুমি দস্যু সন্ত্রাসীদের আইনানুগ ব্যবস্থা না করে রোগী সাজিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি ও সদর থানায় পাল্টা অভিযোগ করার নির্দেশ প্রদান করে।

পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা সদর থানায় গত ১৭ ইং আগষ্ট সন্ধ্যার পরে এএসআই আতিকুর রহমান শালিশ বৈঠক করে। উক্ত শালিশ বৈঠকে মেম্বার হাকিমের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ জন ভাড়া করা লোক সদর থানায় হাজির হয়। শালিশে এক পর্যায়ে মেম্বার হাকিম ক্ষিপ্ত হয়ে নিত্ত দাসের মুখে চড় মারতে যায়। এএসআই নিত্ত দাসের দুই জন ছাড়া বাকি ৪ জন লোকের বাহিরে চলে যেতে বলে। ঘটনার তথ্য সংগ্রহে এই প্রতিবেদক থানায় গেলে তাকে জীবননাশের হুমকি প্রদান করে মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনী। পরবর্তীতে সদর থানার অপারেশন ওসি নিজ দায়িত্বে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন।