কালিগঞ্জের বন্দকাটি ‘মিনি টেকনাফ’ প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, বেড়েছে চুরি-ডাকাতি : নীরব প্রশাসন!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ৭, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন /
কালিগঞ্জের বন্দকাটি ‘মিনি টেকনাফ’ প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, বেড়েছে চুরি-ডাকাতি : নীরব প্রশাসন!

* সরাসরি কক্সবাজার থেকে ইয়াবা আসে।

* গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং।

* বিভিন্ন এলাকার চুরি সংঘটিত হওয়ার নেতৃত্ব।

নিজস্ব প্রতিবেদক : কালিগঞ্জ উপজেলার বন্দকাটি গোরস্থান মোড়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ইয়াবা বিক্রির একটি সক্রিয় পয়েন্ট।সরাসরি কক্সবাজার থেকে ইয়াবা ছোট ছোট চালান এসে সেখান থেকে পৌঁছে যায় কালিগঞ্জ উপজেলার খুচরা বিক্রেতাদের কাছে। ইয়াবা সেবন করছে ১৬ বছরের অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর থেকে শুরু করে ৫০ বছর বয়সী মধ্যবয়সীরাও। ইয়াবার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে চুরি-ডাকাতি। অনিরাপদ হয়ে উঠেছে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বন্দকাটি গ্রামের শত শত পরিবারের বসবাস।অপ্রাপ্তবয়স্করা মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে গড়ে তুলেছে কিশোর গ্যাং। এই কিশোর গ্যাং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন মহল্লায় ডাকাতি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদকের প্রভাবে গত কয়েক মাসে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে ১০-১২টি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তবুও থেমে নেই প্রকাশ্যে ইয়াবা সেবন ও বিক্রি। বর্তমান সরকারের কাছে মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো আইনগত পদক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয়রা। মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।সম্প্রতি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য মোস্তফা রায়হান সিদ্দিকী মাদকের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, মাদক সিন্ডিকেটের যোগসাজশে তার গ্রামের বাড়ি কালিগঞ্জের বন্দকাটিতে ডাকাতি করে তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ফোন দুটিতে মাদক ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন তথ্য, মাদক সেবনের ভিডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত ছিল বলে জানা গেছে।এ ছাড়া মাদক সিন্ডিকেট বিভিন্ন এলাকার চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গেও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। চোরাই মালামাল কেনাবেচার জন্য রয়েছে আরেকটি মাদকসেবী সক্রিয় গ্রুপ। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চোরাই মালামাল কেনাবেচার নেতৃত্ব দেয় বন্দকাটি গ্রামের দুই মাদকসেবী ইমামুল ইসলাম ও আমিরুল গাজী।বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ মোস্তফা বলেন, “কালিগঞ্জের বন্দকাটি আজ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রকাশ্যে ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেরা অহরহ মাদক সেবন করছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে চুরি-ডাকাতি করছে। মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না। এখানে মাদকের গডফাদার ওবায়দুল্লাহ গাজী। তার নামে ডজনখানেক মামলা রয়েছে। সে সরাসরি কক্সবাজার থেকে ইয়াবা নিয়ে আসে। আমরা প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ চাই।বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষ্ণুপুরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট, যার নেতৃত্ব দেয় বন্দকাটির ওবায়দুল্লাহ গাজী। সে সরাসরি কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে খুচরা বিক্রি করে। সম্প্রতি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য মোস্তফা রায়হান সিদ্দিকীর বাড়িতে মাদক সিন্ডিকেট ডাকাতি করেছে। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। আমরা এ ধরনের মাদকসেবী ও মাদক গডফাদারদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।