সাতক্ষীরায় দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত শুরু


News Desk (S) প্রকাশের সময় : জুলাই ৫, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ন /
সাতক্ষীরায় দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত শুরু
আশাশুনি সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব সরকারের বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তর এলজিইডি, খুলনা অঞ্চল, খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী (চ. দা.) জ্যোতির্ময় মোহন্ত।
তিনি বলেন, আশাশুনি উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব সরকার ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাপ্পী কুমার দাসের বিরুদ্ধে প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন কাজে প্রকল্পের প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর প্রত্যয়ন না নিয়ে চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়েছে এ মর্মে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। তদন্তের ১ম দিনে আমরা অভিযোগ পত্রে উল্লেখিত দক্ষিণ কাদাকাটি কাজীবাড়ী, বুড়িয়া, গুনাকরকাটি, মধ্যম বেউলা, গদাইপুর ও গোয়ালডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাম মাত্র কাজ করার যে অভিযোগ করা হয়েছে সেসব স্কুল পরিদর্শন করেছি।
প্রাথমিক তদন্তে কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করা হয়েছে। এদিকে দুর্নীতির অভিযোগে ২৯ জুন স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া (গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলায়) প্রোকৌশলী অনিন্দ্য দেব সরকার বদলি ঠেকাতে অভিনব প্রচারণার আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন দরখাস্তকারীরা। বদলি ঠেকাতে অনিন্দ্য দেব স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেছেন, তার মা অসুস্থ বিধায় আশাশুনিতে চিকিৎসাধীন আছেন, এছাড়া ছেলে মেয়ে স্থানীয় পৃথক দুটি স্কুলে পড়াশোনা করে। তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন তিনি প্রথম থেকেই উপজেলার ব্যাচেলর কোয়ার্টারে থাকেন, তার স্ত্রী ও সন্তান আছে সেটা যেমন কেউ জানেনা তেমন এত বছর ধরে কেউ তাদেরকে দেখেননি। অথচ এরকম স্পর্শকাতর মিথ্যা তথ্য দিয়ে তিনি তার বদলী স্থগিত করেছেন। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কয়েক জনকে এরকম বলতে শুনেছি, তবে তদন্ত কার্যক্রম শেষ না পর্যন্ত এ ব্যাপারে মন্তব্য করবো না। অভিযুক্ত অনিন্দ্য দেব সাংবাদিকদের জানান, আমার আবেদন পত্রে অনিচ্ছাকৃতভাবে দুটো ভুল লাইন উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত. উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব সরকার ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাপ্পী কুমার দাসের বিরুদ্ধে উপরোক্ত ৬ টি স্কুলে নামমাত্র কাজ করিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় হুমায়ুন আহমেদ, জাকির, তাপস সহ বেশ কয়েকজন।
প্রোকৌশলীরা সরকারী চাকুরী আইন ২০১৮ এর ১০৮ ধারা, দঃবিঃ ৪০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-এর ৫(১), ৫(২) ধারা অপরাধ করেছেন সে মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ সহ সরকারি তছরুপ কৃত টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তিরা এলজিইডি খুলনা বিভাগ এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।