হাতুড়ে ডাক্তার যখন বিশেষজ্ঞ!অবৈধ প্রেগন্যান্ট ক্লিনিক পরিচালকের মেয়ে মাস্ক ও আবরণে নিজেকে আড়াল করে চলছে ভয়াবহ চিকিৎসা বাণিজ্য।


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৮, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ন /
হাতুড়ে ডাক্তার যখন বিশেষজ্ঞ!অবৈধ প্রেগন্যান্ট ক্লিনিক পরিচালকের মেয়ে মাস্ক ও আবরণে নিজেকে আড়াল করে চলছে ভয়াবহ চিকিৎসা বাণিজ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা ও জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ উঠেছে একটি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। ‘প্রেগন্যান্ট কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামক এই প্রতিষ্ঠানে কোনো বৈধ ডিগ্রি ছাড়াই বিশেষজ্ঞ সেজে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে।প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি জনৈক ব্যক্তির দ্বারা পরিচালিত হলেও সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তার মেয়ে। অথচ ওই তরুণীর কোনো স্বীকৃত মেডিকেল ডিগ্রি (যেমন MBBS) নেই বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিজেকে মাস্ক ও আবরণের আড়ালে লুকিয়ে তিনি নিয়মিত রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন এবং আল্ট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পর্দার আড়ালে নিজেকে ঢেকে রাখার মূল উদ্দেশ্যই হলো নিজের পরিচয় এবং অযোগ্যতা গোপন রাখা।খাদিজাতুল কোবরার কাছে গুরুতর  এই অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে অশ্লীল আচরণ করেন। এবং গণমাধ্যম কর্মীদের জীবননাশের   হুমকি  প্রদান করেন। এই ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে গণ্য। বিএমডিসি আইন, ২০১০ (বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন)​ ধারা ১৯ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও নিজেকে ডাক্তার বা চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেন, তবে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।এর জন্য সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860)ধারা ৪১৯ ছদ্মবেশে প্রতারণা যদি কেউ নিজেকে অন্য কেউ হিসেবে পরিচয় দিয়ে (যেমন ডাক্তার না হয়েও ডাক্তার পরিচয় দেওয়া) প্রতারণা করে,সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড।ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-​ধারা ৪৪ মিথ্যা বিজ্ঞাপন বা ভুল তথ্য দিয়ে সেবা গ্রহীতাকে প্রতারিত করা।ধারা ৫২ সেবার মাধ্যমে মানুষের জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন করা।আইনে জেল এবং বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রয়েছে।বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ১৯৮২ ​লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক পরিচালনা করা বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ক্লিনিক চালানো এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী অবৈধ, যা প্রতিষ্ঠানটি আজীবনের জন্য  সিলগালা বা বন্ধের জন্য যথেষ্ট।সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন এবং স্থানীয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত এই উক্ত তরুণীর মেডিকেল সনদ যাচাই করা। সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় এই ধরনের “ভয়াবহ চিকিৎসা বাণিজ্য” বন্ধ করা জরুরি।সাতক্ষীরা নাগরিক নেতা ইদ্রিস আলী  বলেন  চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে তার বিএমডিসি (BMDC) রেজিস্ট্রেশন নম্বর যাচাই করে নেওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্ব।