ভূমি নায়েব মাসুমার দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছে ভুক্তভোগীরা-বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৭, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন /
ভূমি নায়েব মাসুমার দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু  করেছে ভুক্তভোগীরা-বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল!

দ্রুত দুদকের হস্তক্ষেপ  কামনা করেছেন কুশখালী বাসি ও ভুক্তভোগীরা!

বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক : সাতক্ষীরা সদরের কুশখালী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জনাব মাসুমা সুলতানার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের পাহাড় জমেছে। সম্প্রতি দুদকের খুলনা জেলা কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট টিম কুশখালী ভূমি অফিসে অভিযান চালিয়ে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরও দমে যাননি এই কর্মকর্তা। বরং ‘ধর্ম পিতা’খ্যাত স্থানীয় দালাল সবুর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক ভুক্তভোগী এখন মাসুমার হয়রানির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

এক বছর ১৭ দিনে ফাইল ‘উধাও’: কুশখালী ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা ও কলেজ শিক্ষক মো: আবু মুসা নায়েব মাসুমার চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে একটি ১৪৫ ধারা মামলার তদন্তের আদেশ ১৯/০১/২০২৫ তারিখে কুশখালী ভূমি অফিসে গৃহীত হয় (রিসিভ বুক ক্রমিক নং ৪৯/৮, পৃষ্ঠা ৯৩)। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা মাসুমা সুলতানা দীর্ঘ ১ বছর ১৭ দিন তদন্ত প্রতিবেদনটি দাখিল না করে ফেলে রাখেন। বারবার অফিসে ধর্না দিলেও ‘নথি পাওয়া যাচ্ছে না’ বা হারিয়ে গেছে বলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি তদন্তের জন্য তাকে ব্যক্তিগত খরচে গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে যেতে হলেও তিনি প্রতিবেদন দিতে টালবাহানা করেন বলে তিনি প্রকাশ্য তার শাস্তি দাবি করেন।আবু মুসার কাছে থাকা ভিডিও চিত্রে তদন্তকালীন সময়ে তার অফিস সহকারীসহ বহু লোকের উপস্থিতি ও সমাগম দেখা গেছে।জনাব আবু মুসা অভিযোগ করেন, সরেজমিনে তদন্তের পর নায়েব মাসুমা প্রতিবেদন দেওয়ার বিনিময়ে ‘অফিস খরচ’ বাবদ মোটা অংকের  টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগী এই অনৈতিক অর্থ প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথা বললে নায়েব ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদী পক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেন। এর ফলে দীর্ঘ ১ বছর ১৭ দিন পর গত ০৫/০২/২০২৬ তারিখে তিনি একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া খামখেয়ালী প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।অভিযোগে আরও জানা যায়, মাসুমা সুলতানা বারবার দাবি করেন যে সরকারি নথিটি অফিস থেকে হারিয়ে গেছে। অথচ শেষ পর্যন্ত তিনি ভূমি অফিসের নিয়মিত নথির পরিবর্তে ভুক্তভোগীর সরবরাহকৃত ব্যক্তিগত নথিতেই প্রতিবেদন প্রদান করেন। একটি সরকারি অফিস থেকে মূল নথি গায়েব হওয়া এবং অফিস নির্ধারিত ফরম্যাট ছাড়া প্রতিবেদন দেওয়াকে চরম অনিয়ম ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।তদন্ত প্রতিবেদনে মাসুমা সুলতানা উল্লেখ করেছেন যে, আবু মুসা মাত্র ০২ শতক জমিতে দখলে আছেন। অথচ বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, নালিশী জমির চারপাশ দিয়ে আবু মুসার লাগানো ২৫-৩০ বছরের অনেকগুলো পুরনো গাছগাছালি এবং পাকা সীমানা পিলার বিদ্যমান। চারপাশের বেষ্টনী আবু মুসার দখলে থাকা সত্ত্বেও মাঝখানের অংশকে ‘দখলমুক্ত’ দেখানোকে ভৌগোলিকভাবে অসম্ভব ও কাল্পনিক বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। এছাড়া প্রতিবেদনে প্রতিবেশী বা স্থানীয় কাউকে সাক্ষী না করে ‘খায়রুজ্জামান’ নামে অন্য পাড়ার বিবাদীয় স্থান থেকে ১ কিলোমিটার দূরে তার বাড়ীর অবস্থান বলে জানাযায়। কুশখালী ভুমি অফিসে নায়েব মাসুমার একান্ত অনুচরকে সাক্ষী করা হয়েছে, যাকে ভুক্তভোগী “ভাড়াটে ও ভণ্ড সাক্ষী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।”উল্লেখ্য যে, একই জমির বিরোধ নিয়ে আদালতের নির্দেশে পুলিশ ও পিবিআই (PBI) তদন্ত পরিচালনা করেছে। এবং যে কেসে ভুমি নায়েব মাসুমা মনগড়া খামখেয়ালী প্রতিবেদন দিয়েছেন তার আগেই পুলিশ তদন্ত করে, গত সাতক্ষীরা থানার ননএফআইআর প্রসিকিউশন নং- ১২১ তারিখ- ১২/১০/২০২৫ ইং, ধারা- ১৮৬০ সালের পেনাল কোড আইন ১৮৮ সুত্র বিজ্ঞ আদালতের মামলা নং- p- ৬৪/২৫ (সাতঃ),বিজ্ঞ আদালতের আদেশ নং-০৫, তারিখ- ২০/০৮/২০২৫ ইং, স্বারক নং- ২৩২৪, তারিখ- ২০/০৮/২০২৫ ইং চারিপাশে গাছগাছালি বেষ্টিত আবু মুছার চিহ্নিত জমি, উক্ত পুলিশ রিপোর্টে আবু মুসার ১১ শতক জমি দখলের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও নায়েব মাসুমা তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন। এমনকি বিবাদীরা আবু মুসার সীমানা খুঁটি উপড়ে ফেলায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে ১৮৮ ধারায় মামলা গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন। নায়েব মাসুমার দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী আবু মুসা গত ০৭/০৪/২০২৬ তারিখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) (স্মারক নং: ১১৭২) ও ২৮/০৪/২৬ UNO বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেন । কিন্তু অভিযোগের দীর্ঘ সময় পার হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষুব্ধ হচ্ছে এলাকাবাসী। নিউজটি প্রকাশের সময় অভিযুক্ত মাসুমা সুলতানার একটি বক্তব্য বা “তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করালে তিনি দৌড়িয়ে পালিয়ে যান।”সিমেন্ট পিলার দ্বারা সিমানা চিহ্নিত জমি যা বিবাদীদের দ্বারা কিছুটা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী দালালের মাধ্যমে কাজ করা বা অর্থ দাবি করা ফৌজদারি অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও মাসুমা সুলতানা কীভাবে বহাল তবিয়তে তার ‘দালাল সাম্রাজ্য’ চালাচ্ছেন, তা নিয়ে কুশখালীবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই ‘লেডি নায়েব’ ও তার ‘দালাল সিন্ডিকেট’-এর হাত থেকে মুক্তি দিতে জেলা প্রশাসন যেন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।