কলারোয়ায় বুশরা সমবায় সমিতির টাকা আত্নসাতের অভিযোগে মানববন্ধন


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৭, ২০২৬, ২:১৯ পূর্বাহ্ন /
কলারোয়ায় বুশরা সমবায় সমিতির টাকা আত্নসাতের অভিযোগে মানববন্ধন

কলারোয়া প্রতিনিধি : কলারোয়ায় বুশরা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ৫৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে সাতক্ষীরার কলারোয়া বাজারে সমিতির কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন ভুক্তভোগী গ্রাহক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শতাধিক নারী-পুরুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরতের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষকে অধিক মুনাফার আশ্বাস দিয়ে বুশরা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতিতে টাকা জমা রাখতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। কৃষক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, প্রবাসীর পরিবার, এমনকি অনেক নারী তাদের গহনা বিক্রি করেও এই সমিতিতে অর্থ জমা রেখেছিলেন। কেউ চিকিৎসার জন্য সঞ্চয় করছিলেন, কেউ সন্তানদের লেখাপড়ার খরচের জন্য, আবার কেউ ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবে বছরের পর বছর ধরে কষ্ট করে টাকা জমিয়েছেন।অভিযোগে বলা হয়, সমিতির ম্যানেজার কামরুজ্জামান প্রায় ৫ হাজার গ্রাহকের আমানতের টাকা নিয়ে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। কয়েকদিন ধরে অফিস কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। গ্রাহকরা অফিসে গিয়ে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দেখা পাচ্ছেন না। এতে গ্রাহকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক, হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে একাধিক ভুক্তভোগী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। অনেক কষ্ট করে টাকা জমিয়েছিলাম। এখন সেই টাকাই ফেরত পাচ্ছি না। মেয়ের বিয়ের টাকা, ছেলের পড়াশোনার টাকা, চিকিৎসার টাকা সব আটকে গেছে। আমরা এখন কোথায় যাবো?” একজন বৃদ্ধ গ্রাহক বলেন, “সারা জীবনের সঞ্চয় এখানে রেখেছিলাম। এখন শুনছি অফিস বন্ধ, ম্যানেজার পালিয়েছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সাথে এমন প্রতারণার বিচার হওয়া উচিত।”সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সমিতির কার্যক্রম নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে আজ হাজার হাজার মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বক্তারা আরও বলেন, এ ধরনের সমবায় সমিতির নামে প্রতারণা বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ আর প্রতারিত না হন।ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলন ও বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।