অধ্যক্ষ খলিলুরের খুঁটির জোর কোথায়? আওয়ামী লীগের প্রভাব ছেড়ে এবার কি বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে পার পাবেন?


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ন /
অধ্যক্ষ খলিলুরের খুঁটির জোর কোথায়? আওয়ামী লীগের প্রভাব ছেড়ে এবার কি বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে পার পাবেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরার ঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা ‘এমপিও বাণিজ্য’ ও রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশের পর এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত দুদিন আগে সংবাদ প্রকাশের পর থেকে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ৩০ জন শিক্ষকের কাছ থেকে জন প্রতি ৪ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার যে ‘মাস্টারপ্ল্যান’ তিনি সাজিয়েছিলেন, তা এখন কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে টক অফ দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।​ভয়ভীতি উপেক্ষা করে মুখ খুলছেন শিক্ষকরা অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান ভুক্তভোগী শিক্ষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, কিস্তিতে টাকা আদায়ের যে ‘অফার’ তিনি দিয়েছিলেন, তা মূলত শিক্ষকদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে এক বিশাল প্রতারণা। তারা বলছেন, “আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শওকতের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে একসময় যিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন, এখন তিনি বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।তদন্তের দাবিতে উত্তাল নাগরিক সমাজ এদিকে কলেজের বর্তমান পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আমজাদ হোসেনের ‘তদন্ত করার’ আশ্বাসকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, নাগরিক সমাজ এতে স্বচ্ছতা দাবি করেছে। নাগরিক নেতা হাসানুর রহমান পুনরায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন,​শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আঞ্চলিক শিক্ষা দপ্তরের নাম ভাঙিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। আমরা চাই দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক, যেন কোনো রাজনৈতিক প্রভাব তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।​বিএনপির ভেতরেও অস্বস্তি ৫ই আগস্টের পর ভোল পাল্টিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির পদ বাগিয়ে নেওয়া খলিলুরের কর্মকাণ্ডে খোদ দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের মতে, খলিলুরের মতো সুবিধাভোগীরা দলের ত্যাগী নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, “যিনি গতকাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের হয়ে দাপট দেখিয়েছেন, আজ তিনি বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করবেন তা দল মেনে নেবে না।অধ্যক্ষের সাফাই ও বর্তমান পরিস্থিতি অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান এটিকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিলেও, শিক্ষকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অগ্রিম ১ লাখ টাকা এবং খুলনা আঞ্চলিক অফিসের নামে তোলা ৫০ হাজার টাকার কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি এমন বাণিজ্য অব্যাহত থাকে, তবে তা শুধু কয়েকজন শিক্ষকের ক্ষতি নয় পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তিকেই ধ্বংসের মুখে।