
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক রিপোর্ট : সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ‘নওয়াবেঁকী গণমূখী ফাউন্ডেশন’-এর ক্ষুদ্রঋণের আড়ালে চলছে এক ভয়াবহ সুদের কারবার। সমিতির চড়া সুদের কিস্তি দিতে গিয়ে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত পরিবার। আগরদাঁড়ি ইউনিয়নের ভুক্তভোগী শেখ সেলিম রেজা ও চুমকি আক্তারের মতো অসংখ্য মানুষের অভিযোগ কিস্তির দায়ে এই সমিতি কেবল অর্থই নয়, কেড়ে নিচ্ছে হাঁড়ি-পাতিল, গরু-ছাগল, এমনকি মানুষের সম্মানও।পবিত্র রমজান মাসে ইফতার করতে বাধা দেওয়া এবং ঋণের দায়ে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করার মতো অমানবিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে এই এনজিওর বিরুদ্ধে। এমনকি নারী ও শিশুদের ওপর শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটেছে নিয়মিত। এই জুলুমের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সমিতির পরিচালক লুৎফর রহমান দম্ভভরে বলেন, “টাকা না দিলে মানুষের ওপর একটু জুলুম করা হবেই।” পরিচালকের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ স্বীকারোক্তিই প্রমাণ করে, আইনের তোয়াক্কা না করে তারা এক অন্ধকার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA) আইন,২০০৬এই আইনের বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের ওপর মানসিক বা শারীরিক চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না। কিস্তি আদায়ে বলপ্রয়োগ বা সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। আইন লঙ্ঘন করলে ধারা ১৮ ও ৪৪ অনুযায়ী উক্ত প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ জরিমানার স্পষ্ট বিধান রয়েছে।দণ্ডবিধি (Penal Code, 1860) – শারীরিক লাঞ্ছনা ও লুণ্ঠন:ধারা ৩২৩ ও ৩২৫ কিস্তির জন্য গায়ে হাত তোলা বা মারধর করা ফৌজদারি অপরাধ। এর শাস্তি জেল ও জরিমানা।ধারা ৩৮০ ও ৩৯২ মালিকের বিনা অনুমতিতে বা জোরপূর্বক বাড়ি থেকে গবাদিপশু ও আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়া ‘চুরি’ ও ‘দস্যুতা’র শামিল শুধু এখানে শেষ নয়,পবিত্র রমজান মাসে খাদ্য গ্রহণে বাধা দেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা মৌলিক মানবাধিকারের চরম পরিপন্থী। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঋণের কিস্তির জন্য কোনো ব্যক্তিকে তার ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ বা বাধ্য করা যাবে না।সাতক্ষীরা নাগরিক নেতা ইদ্রিস আলী বলেনজনসেবার নামে যারা সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে খাচ্ছে, তাদের আইনগতভাবে মোকাবিলা করার সময় এসেছে। নওয়াঁবেকী গণমূখী সমিতির এই স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :