আলোচিত সফি’র দৌড়ঝাপ শুরু, প্রশাসনকে ম্যানেজের দায়িত্বে রবিউল


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৫, ২০২৫, ২:২৮ অপরাহ্ন /
আলোচিত সফি’র দৌড়ঝাপ শুরু, প্রশাসনকে ম্যানেজের দায়িত্বে রবিউল

বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক:বর্তমান সাতক্ষীরা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরে সাতক্ষীরার আলোচিত সফি ওরফে সফিউর রহমান সফি’র দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। নিজেকে পরিচ্ছন্ন প্রমান করতে বিভিন্ন দপ্তরে ধর্ণা দিচ্ছেন। সামগ্রিক চাপ সামাল দিতে এবার প্রশাসনের কতিপয় ব্যক্তিকে ম্যানেজ করার দায়িত্ব নিয়েছে সফি’র সহচর অস্ত্র ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম।

শহরের ইটাগাছা এলাকার মুজিবর রহমানের ছেলে সফিউর রহমান সফি বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে পৌর আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে প্রচুর অর্থ আদায় করেছে। তবে বর্তমানে গাঁ ঢাকা দিয়েছে সফি। রবিউল তার এজেন্টা বাস্তবায়ন করে চলেছে।

সূত্র জানায়, গত ১৫ বছরে আওয়ামী সরকারের সুযোগ সুবিধা ভোগ করে এবার একই পন্থায় বিএনপিতে যোগ দিয়ে নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে চান সফি। তিনি সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামীলীগের সহসাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকার সফিউর রহমান সফি একসময়ে ঠিকাদারি করলেও লাইসেন্স বাতিল ও বিভিন্ন কারনে তিনি দলীয় লেবাজ লাগিয়ে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সাতক্ষীরা তালায় বাড়ি একজন ডিআইজি ও অপর একজন সংসদ সচিবালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে কাজে লাগিয়ে জেলা ব্যাপি চাঁদাবাজীতে জড়িয়ে পড়েন, গড়ে তোলেন একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট।
সূত্র আরো জানায়, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে  ২ লাখ ও ১ লাখ করে দুটি স্লিপে মোট ৩ লাখ টাকা সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখায় মেসার্স শফি এন্টারপ্রাইজ নামের একাউন্টে জমা করা হয়েছে। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে চাঁদা হিসাবে টাকা নিয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ইটাগাছা এলাকায় বিএনপি অফিসের নাম করে বাপাউবো এর শাখা কর্মকর্তা  ও নির্বাহী প্রকৌশলীর থেকে মোট অংকের চাঁদা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড,পওর-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সালাহউদ্দিন চাঁদা নেওয়ার ব্যাপারে কথা বলতে রাজি না হলেও তিনি বলেন খুব যন্ত্রনায় আছি।
এদিকে, ২ বছর আগেও সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা সাতক্ষীরার আলোচিত সফিউর রহমান সফি এবার ভোল পাল্টে বিএনপি’তে ঠাঁই পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের হোতা আলোচিত সফি’কে দলে ভেড়াতে এক ধরনের নেতার যেন অভাব নেই। তবে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি’র মূল ধারার নেতারা জানিয়েছেন সফি নামের তাদের কোন নেতা বা কর্মী নেই। মিথ্যা পরিচয় দিলে পুলিশে দেওয়ার পরামর্শ দেন দলটির জেলা পর্যায়ে শীর্ষ নেতারা।
এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে তার বাড়ি সাতক্ষীরা শহরে হলেও তার আদি বাড়ি সীমান্ত এলাকায়। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে সে প্রভাব বিস্তার করে এলাকায় গরুর খাটাল, মাদক, অস্ত্র, শাড়ি কাপড় ও স্বর্ণ চোরাচালানের সাথে জড়িয়ে পরে। সে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রানালয়ের তালিকা ভূক্ত চোরাচালানি ও হুন্ডি ব্যবসায়ী বলেও জানা গেছে। তদন্ত করলে তার অপরাধের রাম রাজত্ব খুজে পাওয়া যাবে। এলাকায় প্রচলিত আছে বীমার টাকা পাওয়ার জন্য সে তার পূর্বের দুই স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। এ বিষয়ে তার পূর্বের স্ত্রীদের সন্তানদের নিকট তথ্য সংগ্রহ করা হলে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে।
৫ আগষ্টের পরে সে নতুন করে একটি বাহিনী সৃষ্টি করেছে। যার মাধ্যমে সে শহরে প্রভাব বিস্তারসহ নিরীহ মানুষদেরকে জিম্মি করে চলেছে। ২০১৮ সালে এবি ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখার তৎকালিন ম্যানেজার খেলাপি ঋন আদায় ও সংশ্লিষ্ট সম্পদ ব্যাংকের অনুকুলে নেওয়ার জন্য আদালতে সফিউর রহমান সফির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি চলমান।
আলোচিত সফি’র বিরুদ্ধে তদন্ত করেছে পুলিশ। এলাকাবাসীর লিখিত গণঅভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাতক্ষীরা সদর সার্কেল আলোচিত সফি’র বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করেছেন। অপরদিকে, ৫আগষ্ট’২৪ এর পরে সফির নামে হওয়া একটি হত্যা মামলা তদন্ত করছে পিবিআই। যার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে দাখিল হবে বলে জানা গেছে।   এসব বিষয়ে সফিউর রহমান সফি জানান, আমি কোন সময় আওয়ামীলীগ করিনি। নিউজ করলে মামলা হবে। আমি দেখে ছাড়ব।
এব্যাপারে সাতক্ষীরা পৌর ও সদর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক ড.মনিরুজ্জামান জানান, আমি ব্যক্তিগত ভাবে সফি নামের এই ব্যক্তিকে চিনিনা। আমাদের দলের কেউনা। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অপরাধ করলে কোন প্রকার ছাড় নেই। অপরাধ জগতের কোন ব্যক্তির সাথে আমাদের দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। কোন চাঁদাবাজ ও অপরাধি’র বিএনপিতে ঠাঁই নাই।