
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কপোতাক্ষ নদের ভাঙনে বালিয়া, শুভংকরকাটি, তেঘরিয়া, ডুমুরিয়া ও শাহজাতপুর গ্রামের মানুষের রেকর্ডীয় সম্পত্তি নদীগর্ভে বিলীন হয়। পরবর্তী সময়ে ওই জমি পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের সোনাতনকাটি ও মাহমুদকাটি এলাকায় নদীর পাশে জেগে ওঠে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সেখানে তাঁদের রেকর্ডীয় প্রায় ১০০ একর জমি রয়েছে এবং তাঁরা প্রায় ২০ বছর ধরে এসব জমি ভোগদখল করে আসছেন।
তাঁদের অভিযোগ, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে সোনাতনকাটি গ্রামের মৃত এরফান গাজীর ছেলে মইনুর গাজীর নেতৃত্বে ২০-২৫ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক ওই জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় ধানের ফসল ও মৎস্য ঘের লুটপাট, ঘেরের বাঁধে লাগানো ফলের গাছ কেটে নেওয়া এবং মৎস্য ঘেরের বাসায় আগুন দেওয়ার অভিযোগ করেন তাঁরা। এছাড়া জাল ও খেপলা জাল দিয়ে ঘেরের লাখ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তরা যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের হুমকি দিচ্ছেন। এতে তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে জমি উদ্ধারের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
বক্তারা বলেন, প্রথমে দুই পক্ষ বসে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে জমি মাপজোকের মাধ্যমে বিষয়টি নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অপর পক্ষ সেখানে উপস্থিত হয়নি। এ অবস্থায় প্রশাসনের মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধন শেষে নেতৃবৃন্দ তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, শান্তিপূর্ণ দখল নিশ্চিত, ক্ষতিপূরণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ মানববন্ধন করেছেন এবং স্মারকলিপি দিয়েছেন। বিষয়টি দুই উপজেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাব।
আপনার মতামত লিখুন :