কালিগঞ্জে সৌদি আরবে পাঠানোর নামে সাড়ে ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ


News Desk (S) প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ন /
কালিগঞ্জে সৌদি আরবে পাঠানোর নামে সাড়ে ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে সৌদি আরবে পাঠানোর কথা বলে এক যুবকের কাছ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার পর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে আদালতে নালিশ করেছেন উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বন্দকাটি গ্রামের মৃত রওশন আলীর ছেলে ইউনুস আলী।অভিযুক্তরা হলেন—কালীগঞ্জের ফতেপুর (বাঁশতলা মাছের সেট) এলাকার মৃত মুনছুর আলী সরদারের মেয়ে মোছা. মুসলিমা পারভীন এবং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের নৌবাসপুর গ্রামের আল আকবর আলী সরদারের ছেলে আবু মুছা সরদার।আদালতে দেওয়া নালিশে ইউনুস আলী অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।
সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, ৬ মাস আগে সৌদিআরব যাওয়ার জন্য একই এলাকার খুকুকে ৬ লাখ টাকা দেন ইউনুস আলী। কালিগঞ্জ উপজেলার বাঁশতলা বাজারে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মুসা সরদারের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়। ইউনুস আলী মুসা সরদার ও খুকু পারভীনের প্রতারণায় পড়ে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সমিতি থেকে চড়া সুদে লোন নিয়ে ভিসার দাবিকৃত টাকা জমা দেয়। শর্ত ছিল তাকে একটি সুপারশপে চাকরি দিবেন কিন্তু সৌদি আরব নিয়ে দালালের মাধ্যমে চাকরি দেওয়া হয় একটি মরুভূমি উঠের খামারে। তীব্র গরমে পানি শূন্যতায় ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ে ইউনুস আলী। পরে ইউনুস কষ্ট সহ্য না করতে পেরে দালালকে তার চুক্তি অনুযায়ী কাজের দেওয়ার কথা জানান। পরে দালাল ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করে সৌদি পুলিশ দিয়ে জেলখানায় পাঠায়। ১ মাস ১০ দিন জেল খাটার পর ইউনুস আলীকে বাংলাদেশে পাটিয়ে দেয় সৌদি সরকার। পরে দেশে এসে প্রতারণামূলক সাতক্ষীরা আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী ইউনুস আলী।  পরবর্তীতে  মামলাটি পিবিআই তদন্ত দেয় আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান উপ পরিদর্শক ইব্রাহিম।
ইব্রাহিম ইউনুস আলীর ঘটনাশুনে প্রকৃত ঘটনার পক্ষে তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। ইউনুস আলী ২০ হাজার টাকা দেন এবং পরবর্তীতে বাকি টাকা দেওয়ার সম্মতি প্রকাশ করেন। কিন্তু বিরোধীপক্ষের থেকে এস আই ইব্রাহীম মোটা অংঙ্কের টাকার বিনিময়ে তদন্ত রিপোর্ট মিথ্যা প্রদান করেন। সেই মিথ্যা রিপোর্ট বিপাকে পড়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ইউনুস আলী।
বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ মোস্তফা বলেন, ইউনুস আলী একজন নিরীহ মানুষ। দেশে মুজুরির কাজ করে সংসার চালাতো। সে বাঁশতলা বাজারের ব্যবসায়ী মুসা সরদার ও দালাল খুকু পারভীনকে ৬ লাখ টাকা দেন। কিন্তু তাকে নরমাল ভিসা দিয়ে মরুভূমির উঠের খামারে বিক্রি করে দেন। পরে সে দেশে মামলা করেও পিবিআই এস আই দ্বারা প্রতারিত হয়েছে। আমরা আইনগত ভাবে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার দাবি করছি।
ভুক্তভোগী ইউনুস আলী বলেন, আমার মামলার পক্ষে তদন্ত দেওয়ার নামে পিবিআই এস আই ইব্রাহিম প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। আমি তাকে ২০ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু সে বিরোধপক্ষের থেকে মোটা অংঙ্কের টাকা নিয়ে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে। রিপোর্ট টি মিথ্যা আমাকে তারা প্রতারিত করেছে। আমি এই দালাল খুকু পারভীন ও এস আই ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাই।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই ইব্রাহিমকে একাধিক বার ফোন দিয়ে বক্তব্য চাইলে তিনি বলেন অফিসে এসে কথা বলেন।