সাপ্তাহিক বর্তমান সাতক্ষীরা পত্রিকায় সংবাদ  প্রকাশের পরপরই সিভিল সার্জনের সাঁড়াশি অভিযান- অবৈধ  আল-শেফা হাসপাতাল ও জয়া ডায়াগনস্টিক সিলগালা !


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ১:২৪ পূর্বাহ্ন /
সাপ্তাহিক বর্তমান সাতক্ষীরা পত্রিকায় সংবাদ  প্রকাশের পরপরই সিভিল সার্জনের সাঁড়াশি অভিযান- অবৈধ  আল-শেফা হাসপাতাল ও জয়া ডায়াগনস্টিক সিলগালা !

​বিশেষ প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে সরকারি আইন অমান্য করে অবৈধভাবে পরিচালিত আল-শেফা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং জয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার এ অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠান দুটি সিলগালা করে দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সাপ্তাহিক বর্তমান সাতক্ষীরা পত্রিকায় প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সিভিল সার্জন কার্যালয় সশরীরে এ অভিযান পরিচালনা করে।জালিয়াতি, চুরি ও দালালচক্রের আস্তানা আল-শেফা অনুসন্ধানে জানা যায়, কোনো বৈধ লাইসেন্স, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিংবা পাস করা প্যাথলজিস্ট ছাড়াই বহাল তবিয়তে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল আল-শেফা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যোগ্য প্যাথলজিস্ট ছাড়া জাল সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া এবং সরকারি হাসপাতালের রোগীদের দালালচক্রের মাধ্যমে ভাগিয়ে নিয়ে আসার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।চক্রটির মূল হোতা নিজেকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের ‘পিএস’ দাবিদার মাসুদুর রহমান রাসেল এবং চক্ষু ডাক্তার আমিনুর রহমান। তারা সরকারি হাসপাতালের নমুনা চুরি করে বাইরে নিয়ে কমিশন বাণিজ্য চালাত। এছাড়া মাসুদের বিরুদ্ধে হাসপাতালের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও মহামূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি করে ভাঙড়ির দোকানে বিক্রি, আউটসোর্সিং নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই-খুদা স্পষ্ট জানান, তাঁর কোনো পিএস নেই এবং মাসুদ একজন প্রতারক।অন্যদিকে বাঁকাল এলাকায় অবস্থিত জয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এর বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে রোগীদের আতঙ্কিত করে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া, অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে ভুল রিপোর্ট তৈরি এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডের (হানিট্রাপ ও যৌন ব্যবসা) গুরুতর অভিযোগ ওঠে। প্রতিষ্ঠানটিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ফায়ার লাইসেন্সের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. সমীর কুমার দাশ দেশের আইন ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করেন। একজন সরকারি চিকিৎসকের এমন মন্তব্যকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করছেন স্থানীয় নাগরিক নেতারা।সাতক্ষীরার আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্য পেনাল কোড ১৮৬০ (ধারা ৪১৯, ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১), মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এবং দ্য প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অর্ডিন্যান্স ১৯৮২ অনুযায়ী ভুয়া পরিচয়, জাল রিপোর্ট, অনুমোদনহীন ক্লিনিক পরিচালনা এবং ফায়ার লাইসেন্স না থাকা কঠোর দণ্ডনীয় অপরাধ।​অভিযানের বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম জানান জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি সৃষ্টি করে অবৈধভাবে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। অপরাধের প্রমাণ মেলায় আল-শেফা ও জয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়েছে এবং অবৈধ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।