ধুলিহর ভূমি নায়েব মনির ঘুষ, দূর্ণীতি ও অনিয়ম চরমে


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৩, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন /
ধুলিহর ভূমি নায়েব মনির ঘুষ, দূর্ণীতি ও অনিয়ম চরমে

চাকরি থেকে অর্জিত আয়ের তুলনায় সম্পদ ও জীবনযাপনের ধরন নিয়ে চলছে অনুসন্ধান——
# ভূমি নায়েব মনিরুজ্জামান মনি অপ্রতিরোধ্য।
# অর্জিত আয়ের তুলনায় সম্পদ বহু গুন।
# বাঁশদহা, সদর অফিসের বড় বাবু থাকা কালে ঘুষে লালে লাল।
# বিলাশ বহুল ৫ তলা বাড়ি, নামে বেনামে সম্পদের পাহাড়।
# কতিপয় কর্তার সাথে ঘণিষ্ঠতা।
# নামজারিতে ৭, জমি তদন্তে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ।
# রয়েছে একাধিক দালাল সিন্ডিকেট।
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক:
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি নায়েব) মোস্তফা মনিরুজ্জামন মনি’র বিরুদ্ধে ঘুষ, দূর্নীতি ও অনিয়মের পাহাড়সম অভিযোগের সন্ধান মিলেছে। উপজেলার বাঁশদহা, সদর ও পৌর অফিসের বড় বাবু, বর্তমানে ধুলিহর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নায়েব মনি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দিদারচ্ছে ঘুষ বার্ণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। কতিপয় কর্মকর্তার সাথে ভালো সম্পর্ক থাকার সুবাদে সে ঘুরে ফিরে ঘুষের রাজ্য নামক ষ্টেশনে বদলি হয়। যার প্রেক্ষিতে আজ সে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছে। চাকরি থেকে অর্জিত আয়ের তুলনায় সম্পদ ও জীবনযাপনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেখার কেউ নেই?
সূত্র জানায়, ভূমিসেবা দিতে ঘুষ দাবি, ফাইল আটকে রাখা এবং অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে। জমির মামলা তদন্তে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে থাকেন ভূমি নায়েব মনি। টাকা নিয়ে প্রকৃত মালিকের পক্ষে রিপোর্ট না দিয়ে বিপক্ষ পাটির পক্ষে রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে হরহামেশা।
ধুলিহর এলাকার বাসিন্দা তৌহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, তিনি নামজারির জন্য আবেদন করার পর তাঁর ফাইল আটকে রাখা হয়। পরে কর্মকর্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির মাধ্যমে ৭ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাঁর নামজারি-সংক্রান্ত কাজ এগোয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। অভিযোগকারী আব্দুস সামাদ বলেন, ১০০ টাকা ভূমি উন্নয়ন করের পরিবর্তে তাঁকে ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। এমন অভিযোগ আরো অনেকের।
অভিযোগকারীদের অনেকে দাবি করছেন, ভূমি অফিসে দালালের মাধ্যমে কাজ করানোর একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে এবং এর বাইরে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ফাইল নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য সেবাগ্রহীতা, অফিসের নথি এবং সরকারি ফি-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী স্থানীয়দের।
এদিকে নায়েব মনির বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর সরকারি চাকরি থেকে অর্জিত আয়ের তুলনায় সম্পদ ও জীবনযাপনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে তাঁর নামে থাকা সম্পদ, আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী বা সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ড যাচাই করে দুদকের ব্যবস্থা গ্রহন জরুরি মনে করেন স্থানীয়।
অভিযোগের বিষয়ে নায়েব মনির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে সব স্যারের ভালো সম্পর্ক রয়েছে, আপনারা আমার কিছুই করতে পারবেন না।” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
স্থানীয় নাগরিক নেতা আবুল হাসান অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেন, অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং তাঁর সম্পদের উৎসও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। দুদকের হস্থক্ষেপও কামনা করেন এই নাগরিক নেতা।