
শহর প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার মথুরাপুর মারকাযুল উলূম মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী জিসানকে (১০) বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গত রবিবার পড়ালেখাকে কেন্দ্র করে ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন শিক্ষক মামুন। বর্তমানে জিসান গায়ে জ্বর ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে জিসানকে হেফজ পড়ার উদ্দেশ্যে মথুরাপুর মারকাযুল উলূম মাদ্রাসায় ভর্তি করেন তার বাবা-মা। স্বজনদের অভিযোগ, ভর্তির পর থেকেই পড়ালেখাকে কেন্দ্র করে জিসানকে প্রতিনিয়ত শারীরিক নির্যাতন করা হতো। বিষয়টি বাবা-মাকে জানালে আবারও মারধরের ভয় দেখানো হতো। সেই ভয়ে টানা পাঁচ মাস সব নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করে জিসান।সর্বশেষ গত রবিবার পড়া পারার ব্যর্থতাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক মামুন তাকে পুনরায় নির্মমভাবে পেটান। এতে জিসান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে জিসানের পরিবারকে ফোন করে তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন মাদ্রাসার পরিচালক সেলিম। খবর পেয়ে অভিভাবকরা জিসানকে বাড়ি নিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করলে সে পুরো বিষয়টি খুলে বলে।নির্যাতিত শিক্ষার্থী জিসান গণমাধ্যমকে বলে, “হুজুররা প্রায়ই আমাকে মারধর করেন। এই কথা বাবা-মাকে জানালে আরও বেশি মারার ভয় দেখাতেন। গত রবিবার শিক্ষক মামুন আমাকে অনেক মেরেছেন, এমনকি গলা চেপে ধরেছিলেন।জিসানের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলেকে পড়ালেখার জন্য পাঁচ মাস আগে এই মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলাম। গত রবিবার বেধড়ক মারধরের কারণে সে মারাত্মক অসুস্থ ও জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়ে। আমরা ওকে বাড়িতে এনে শরীরে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। আমরা নির্যাতনকারী শিক্ষকসহ মাদ্রাসার পরিচালক সেলিম হুজুরের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।এ বিষয়ে জানতে মথুরাপুর মারকাযুল উলূম মাদ্রাসার পরিচালক সেলিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :