​ভাড়াশিমলায় দুই যুবককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নিঃস্ব করেছেন নায়েব শর্মিষ্ঠা!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৩, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ন /
​ভাড়াশিমলায় দুই যুবককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নিঃস্ব করেছেন নায়েব শর্মিষ্ঠা!

* ​ঘুষের টাকায় প্রতিদিন ফেনসিডিল খাওয়াতেন।

* ​সনজিৎ ও সুমন নামের দুই যুবক এখন উন্মাদ প্রায়।

* ​সম্প্রতি গণমাধ্যমকর্মীর সাথে কলরেকর্ড ফাঁস।

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঘুষ গ্রহণ ও পরকীয়ায় সবসময় এগিয়ে ছিলেন বিতর্কিত ভূমি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকার। স্থানীয়রা অনেকেই তাঁকে চেনেন ‘মাস্ক লেডি’ হিসেবে। মুখ ঢেকে থেকে তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন তাঁর কর্মস্থলের ঘুষ সিন্ডিকেট। ঘুষের টাকা না পেলে কোনো সেবাই দেন না, বরং সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের শিকার হতে হয় নানা হয়রানির। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার দাপট বজায় রাখা ও অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নিতে একাধিক পুরুষের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়াতেন তিনি।সরজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, ভাড়াশিমলা ভূমি অফিসে কর্মরত থাকা অবস্থায় নায়েব শর্মিষ্ঠা দুই যুবককে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন। তাঁদের বশে রাখতে ঘুষের টাকায় নিয়মিত ফেনসিডিল খাওয়াতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সহজেই মিলত মাদকের চালান। ভুক্তভোগী দুই যুবকের নাম ভাড়াশিমলার সনজিৎ এবং তারালীর সুমন।​সুমন ছিলেন তাঁর নিজস্ব স্কুটি চালক, যিনি প্রতিদিন কালিগঞ্জ ব্রিজ থেকে শর্মিষ্ঠাকে ভাড়াশিমলা অফিসে নিয়ে যেতেন। আর সনজিৎ স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তাঁর মাধ্যমে নামজারি ও ঘুষ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন শর্মিষ্ঠা। নিজের স্বার্থে এই দুই যুবককে তিনি নানাভাবে ব্যবহার করতেন। এমনকি অফিস শেষে রাত পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে মাদকের আড্ডায় শামিল হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। প্রতিদিন রাত ৯টার পর বাসায় ফিরলেও শর্মিষ্ঠার পারিবারিক বাধ্যবাধকতার সুযোগ নিয়ে স্বামী প্রতিবাদের সাহস পেতেন না।​শুধু এই দুই যুবকই নন, শর্মিষ্ঠার বিরুদ্ধে একাধিক পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কলেজ জীবনে স্থানীয় একটি সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর প্রেমের কাহিনী জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে সেই সম্পর্কে ভাটা পড়ে। এছাড়া তাঁর সহকর্মী নায়েব ইউনুস চিশতীর সঙ্গেও ছিল গভীর ঘনিষ্ঠতা। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে ইউনুস চিশতী যেখানেই বদলি হতেন, শর্মিষ্ঠাও সেখানেই বদলি হয়ে যেতেন। এভাবে দুটি কর্মস্থলে তাঁরা টানা ৫ থেকে ৬ বছর চাকরি করেন।​এখানেই শেষ নয়, পদ ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এক গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গেও গড়ে তোলেন অনৈতিক সম্পর্ক। ঘুষ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের দায়ে সাতক্ষীরা সদর থেকে ফিংড়ী ভূমি অফিসে বদলি হলেও থামেনি তাঁর ঘুষ বাণিজ্য। সম্প্রতি তাঁর দুর্নীতির চিত্র ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।সম্প্রতি ওই গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারের কথোপকথনের অডিও কলরেকর্ড এবং আপত্তিকর ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁস হওয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। ফাঁস হওয়া কলরেকর্ডে নায়েব শর্মিষ্ঠাকে বলতে শোনা যায় আমাকে ছেড়ে গেলে আমি আত্মহত্যা করব। মরে গিয়ে প্রতিশোধ নেব। ভালোবাসার সব অত্যাচার সহ্য করব, তবুও তুমি আমারই থাকো।অভিযোগ রয়েছে, ভালোবাসার অভিনয় করে এবং প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই গণমাধ্যমকর্মীকে দিয়ে নিজের দুর্নীতি আড়াল করার চেষ্টা করেছেন শর্মিষ্ঠা।ভুক্তভোগী সনজিৎ বলেন, “নায়েব শর্মিষ্ঠা ভাড়াশিমলায় যোগদানের পর আমার সাথে পরিচয় হয়। আমি তখন ভূমি অফিসের নামজারির কাজ করতাম। কথা বলতে বলতে ফেসবুকে যুক্ত হই। তিনি যখন তাঁর পারিবারিক অশান্তির কথা শেয়ার করেন, তখন তাঁর প্রতি সহানুভূতি তৈরি হয়। একপর্যায়ে আমরা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি। কিন্তু তাঁর ভালোবাসা ছিল শুধুই নাটক আর স্বার্থ হাসিলের উপায়। আমি তাঁকে সত্যি ভালোবেসে আজ ভবঘুরে।​আরেক ভুক্তভোগী সুমন বলেন, আমার রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা ছিল। খুলনায় তাঁর ছেলের সাথে দেখা করার সুবাদে প্রায়ই গাড়ি ভাড়া নিতেন। একপর্যায়ে তাঁর মিষ্টি কথায় প্রেমে সাড়া দিই। আমি নিয়মিত তাঁর স্কুটি চালিয়ে ভাড়াশিমলা ভূমি অফিসে যেতাম, যা অফিসের সবাই জানত। কিন্তু তিনি ভালোবাসার অভিনয় করে আমার সাথে প্রতারণা করেছেন।ঘটনা প্রসঙ্গে ওই গণমাধ্যমকর্মীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়েই শর্মিষ্ঠার সাথে পরিচয়। পরিচয় থেকে নিয়মিত যোগাযোগের একপর্যায়ে সম্পর্ক তৈরি হয়। তিনি বলেন, ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতি ঢাকতে সে আমাকে নানাভাবে ব্যবহার করেছে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে মূল্যবান উপহার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন স্বার্থ ফুরিয়ে যাওয়ায় সম্পর্ক অস্বীকার করে আমার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে।উল্লেখ্য, উক্ত গণমাধ্যমকর্মীর সাথে শর্মিষ্ঠা সরকারের অনৈতিক সম্পর্কের প্রমাণ, কলরেকর্ড ও চ্যাটিংয়ের নথি বর্তমানে পত্রিকা অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত ও বহুল আলোচিত ভূমি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের মতামত জানতে তাঁর ব্যবহৃত তিনটি নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।