
লেখক: আফজাল হোসেন
নির্বাচনের সময় সাতক্ষীরা-২ আসনের সবচেয়ে আলোচিত ও জোরালো প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি ছিল— মাদক নির্মূল। জনগণ বিশ্বাস করেছিল, এবার হয়তো আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষা পাবে, তরুণ সমাজ ফিরে পাবে আলোর পথ।
রমজানের ঈদে ঝাউডাঙ্গার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাননীয় এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সাহেবের মাদকবিরোধী বক্তব্য শুনে অনেকেই আশাবাদী হয়েছিল। মনে হয়েছিল, মাদকের বিরুদ্ধে সত্যিই কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। কিন্তু আজ বাস্তবতা কী বলছে?
এবার ঈদে এলাকায় এসে যে দৃশ্য দেখলাম, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। উপজেলা-পৌর শহর থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। তরুণরা দিন দিন আরও বেশি মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এমনকি যেসব এলাকায় একসময় মাদকের অস্তিত্ব ছিল না বললেই চলে, সেখানেও এখন মাদকের অবাধ বিচরণ। প্রশ্ন হলো—এভাবে যদি আমাদের যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে আগামী দিনের সাতক্ষীরা কে গড়বে? কার হাতে আমরা ভবিষ্যৎ তুলে দেব?
আরও কষ্টের বিষয় হলো, ধর্ম, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের যে উন্নয়নের কথা বলা হয়েছিল, তার বাস্তব প্রতিফলন খুব একটা চোখে পড়ে না। ফলে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—নির্বাচনের আগে দেওয়া সেই সব বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি কি শুধুই ভোট পাওয়ার জন্য ছিল? ধর্ম ও নীতির কথা কি শুধুই রাজনৈতিক মঞ্চের ভাষণ ছিল? আজ আমাদের সন্তানেরা ঝুঁকিতে, পরিবারগুলো আতঙ্কে, সমাজ নীরব। অথচ নীরব থাকার সময় আর নেই।
মাননীয় এমপি মহোদয়, জনগণ আপনাকে শুধু ভোট দেয়নি, বিশ্বাসও করেছে। সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা আপনার দায়িত্ব। মাদকের বিরুদ্ধে এখনই দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ নিন। যারা মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা যতই প্রভাবশালী হোক, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।
মনে রাখবেন, জনগণ ধৈর্যশীল হতে পারে, কিন্তু চিরদিন নীরব থাকে না। যে জনগণ আপনাকে সম্মান ও সমর্থন দিয়েছে, সেই জনগণই একদিন কঠিন প্রশ্নও করতে পারে। আগামী প্রজন্ম ধ্বংসের জন্য আপনাকেও দায়ী করতেও নুন্যতম পিছপাও হবে না। আমরা রাজনীতি নয়, আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে চাই। আমরা প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চাই। আমরা মাদকমুক্ত সাতক্ষীরা চাই।
লেখক: আফজাল হোসেন
সাবেক ছাত্রনেতা ও সাতক্ষীরা ২ আসনের বাসিন্দা
আপনার মতামত লিখুন :