​জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ গিলে খাচ্ছে ‘রহমান ফার্মেসি’ ও ‘এম আর ব্রিকস’: নেপথ্যে নাসিম ও ডাবলু সিন্ডিকেট


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ন /
​জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ গিলে খাচ্ছে ‘রহমান ফার্মেসি’ ও ‘এম আর ব্রিকস’: নেপথ্যে নাসিম ও ডাবলু সিন্ডিকেট

বিশেষ প্রতিনিধি  :  সাতক্ষীরায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। একদিকে কদমতলা হাটের ‘মেসার্স রহমান ফার্মেসি’তে চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের রমরমা রি-লেবেলিং জালিয়াতি, অন্যদিকে ‘এম আর ব্রিকস’ নামের অবৈধ ইটভাটায় দেদারসে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ ও টায়ারের বিষাক্ত বর্জ্য। প্রশাসনের লাখ লাখ টাকা জরিমানা ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশের তোয়াক্কা না করে, ‘ম্যানেজ’ প্রক্রিয়ায় দিনের পর দিন চলছে এই দুই অবৈধ সাম্রাজ্য।কদমতলা হাট সংলগ্ন মেসার্স রহমান ফার্মেসি। বাইরে থেকে ওষুধ বিক্রির দোকান মনে হলেও এর দোতলার চিত্র ভয়াবহ। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এই ফার্মেসির কোনো বৈধ ড্রাগ লাইসেন্স নেই। অথচ এর দোতলায় মজুত করে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ (ডেট এক্সপায়ার) ওষুধ।​অনুসন্ধানে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসার মতো তথ্য মিলেছে। এই ফার্মেসির মালিক শেখ নাসিম আলী মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের গায়ে নতুন করে ভুয়া সিল ও লেবেল লাগিয়ে দিচ্ছেন। আর সেসব ‘বিষ’ কম মূল্যে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের শ্যামনগর ও কালিগঞ্জসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায়। এই জাল ওষুধ সেবন করে সাধারণ মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।শুধু ড্রাগ লাইসেন্সহীনতাই নয়, পৌরসভাকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন নাসিম আলী। ২০১৮ সালের পর মাঝখানে দীর্ঘ ৬ বছর লাইসেন্স নবায়ন না করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়েছেন। সম্প্রতি ২০২৫ সালে এসে মাঝখানের বিশাল রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে মোটা অঙ্কের কারচুপির মাধ্যমে লাইসেন্স আপডেট করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।​শেখ নাসিম আলীর এই সমস্ত অবৈধ কর্মকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী তার বন্ধু মিজানুর রহমান ডাবলু। এই দুজন মিলে কাশেমপুর জামতলায় পরিচালনা করছেন ‘এম আর ব্রিকস’ নামের এক সম্পূর্ণ অবৈধ ইটভাটা।​এই ভাটার কোনো পরিবেশ লাইসেন্স নেই, নেই  ডিসি অফিসের কোনো ছাড়পত্র। আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের নাকের ডগায় এই ভাটায় দিন-রাত পুড়ছে বনের কাঠ এবং টায়ারের বিষাক্ত কালো ওঝা। ফলে কাশেমপুর ও আশেপাশের এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ধ্বংসের মুখে পড়েছে।অভিযোগ রয়েছে, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন (ডিসি অফিস) থেকে এম আর ব্রিকস নামক  এই অবৈধ ভাটায় অভিযান চালিয়ে প্রথমবার ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তাতেও টনক নড়েনি এই সিন্ডিকেটের। পরবর্তীতে আবারও অভিযান চালিয়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা করাসহ ইটভাটাটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ভাঙা তো দূরের কথা, রহস্যজনকভাবে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে বহাল তবিয়তে প্রতিনিয়ত বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়াচ্ছে এম আর ব্রিকস।​​নাসিম ও ডাবলু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য শুধু জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ ধ্বংসেই সীমাবদ্ধ নেই, নেমে এসেছে সাধারণ মানুষের পকেট কাটায়। ইট দেওয়ার নাম করে এলাকার শত শত সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অগ্রিম লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা।​অগ্রিম টাকা দিয়েও মাসের পর মাস ঘুরে কোনো ইট পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। ইট চাইতে গেলে মিলছে হুমকি-ধমকি। একদিকে পরিবেশের ক্ষতি, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব করে কোটিপতি বনে যাচ্ছে এই সিন্ডিকেট।অভিযোগের বিষয়ে শেখ নাছিম আলী ও অবৈধ ইট ভাটার মালিক মিজানুর রহমান ডাবলুর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। ​স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের প্রশ্ন দুই দুইবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার পরও কীভাবে একটি অবৈধ ইটভাটা সগৌরবে চলে? কীভাবে প্রশাসনের চোখের সামনে ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের সিল মারার কারখানা চালানো হয়?জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় এই জালিয়াতি চক্রের মূলহোতা শেখ নাসিম আলী ও মিজানুর রহমান ডাবলুর বিরুদ্ধে অতি দ্রুত ড্রাগ প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ ও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ কামনা করছেন সাতক্ষীরাবাসী।