
বিশেষ প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মো. আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ঘুষ-বাণিজ্য ও দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছেন আশরাফ খাঁ নামের এক ব্যক্তি।অভিযোগে বলা হয়েছে, আশরাফুজ্জামান বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার , কলারোয়া উপজেলার বামনখালী ও জালালাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেছেন।চাকরিজীবনের বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সাতক্ষীরা রাজ হোটেলের পেছনে তিনতলা একটি বাড়ি, আমতলা মোড়ে একটি বাড়ি এবং সাতক্ষীরার সুলতানপুরে পাঁচ শতক জমির ওপর একতলা ভবনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আশাশুনিতে শ্বশুরবাড়ির এলাকায় প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অসমাপ্ত বাড়ি নির্মাণের অভিযোগও আছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, খুলনার সৈকত ট্রেড সেন্টারের সামনে হুগলা ডাঙ্গার মোড়সংলগ্ন একটি হাইস্কুলের সামনে তার ও স্ত্রীর নামে জমি ও বাড়ি রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবেও কোটি কোটি টাকা জমা থাকার অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারী। এসব সম্পদের উৎস, ক্রয় ও বিনিয়োগের অর্থের বৈধতা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।লিখিত অভিযোগে আশরাফুজ্জামানের পূর্ববর্তী কর্মস্থলগুলোতে দায়িত্ব পালনকালে জলমহালসহ বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। বিশেষ করে শ্যামনগরের আটুলিয়া, তালার পেশকার এবং কলারোয়ার বামনখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে।বর্তমানে চাম্পাফুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে কলিবাড়ি বাজার ও উজিরপুর বাজারের জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা আদায়ের চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া ঘুষুড়ী মৌজার বি.আর.এস ৩৫ নম্বর খতিয়ানের ৪০১/২৪ নম্বর মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিপুল অর্থের বিনিময়ে ওই খতিয়ানের জমির খাজনা-দাখিলা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তার বসবাসরত তিনতলা বাড়িটি প্রায় এক কোটি টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে এবং এ সম্পত্তি নিয়ে সাতক্ষীরা আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।নায়েব আশরাফুজ্জামান কামরুজ্জামান ওরফে কামু এবং ঘুষুড়ির মোবারেক নামের দুই ব্যক্তিকে নিয়ে একটি দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ওই দলাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে লাখ লাখ টাকা আদায় করছে।এদিকে, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আশরাফুজ্জামানের সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব, জমি ও বাড়ির মালিকানা এবং ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত অনিয়ম খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নায়েব মো. আশরাফুজ্জামান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন,আমি নিয়ম মেনে অফিস করি। কোনো আর্থিক লেনদেন করি না।
আপনার মতামত লিখুন :