# সিন্ডিকেট অপ্রতিরোধ্য।
# নিয়মিত অফিস করেন না।
# গ্রাহক হয়রানি, নেট লাইন সংযোগের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়।
# টেন্ডার ছাড়া তার চুরি করে বিক্রি।
# আছে দালাল বাহিনী।
# ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে টাকা আত্মসাৎ।
স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) সাতক্ষীরা জেলা অফিসের কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক লালচাঁদ হোসেন ও জুনিয়র অপারেটর আফরোজা আক্তার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলা অফিসের এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যতসব অনিয়ম, দূর্ণীতি ও ঘুষ বার্ণিজ্য হয়ে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, নেট লাইন সংযোগের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, মাটির নিচের লাইনের তার টেন্ডার ছাড়া চুরি করে বিক্রিসহ পাহাড়সম অভিযোগ আছে। জুনিয়র অপারেটর আফরোজা আক্তার ঠিকমত অফিস করেন না। বেলা ১২ থেকে ১ টার সময় অফিসে এসে হাজিরা দিয়ে আবার ২টা থেকে আড়াইটার দিকে অফিস ত্যাগ করেন। এব্যাপারে অফিসের কারো মাথা ব্যাথা নেই। এছাড়াও তাদের পোষা কমপক্ষে ৪/৫ জনের একটি দালাল বাহিনী আছে।
সূত্র জানায়, ইন্টারনেট বা জিপন (এচঙঘ) সংযোগ ও ল্যান্ডফোন লাইনের তার টানার জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে অবৈধ অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়। অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে বিটিসিএল-এর গেটওয়ে ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন বা ভিওআইপি ব্যবসা পরিচালনা করা হয়।
বড় বাণিজ্যিক গ্রাহক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বকেয়া বিল সিস্টেম থেকে মুছে দেওয়া, কল ডেটা রেকর্ড পরিবর্তন করা বা কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি করা হয়।
মাটির নিচের দামি তামার তার (কপার ক্যাবল) স্ক্র্যাপ হিসেবে গোপনে বিক্রি করে দেওয়া এবং নতুন অপটিক্যাল ফাইবার কেনাকাটায় জালিয়াতি করা হয়। অফিসের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং ভুয়া তেলের বিল ভাউচার তৈরি করে টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
নতুন ব্রডব্যান্ড বা ল্যান্ডফোন লাইনের আবেদন করলে “পোর্ট খালি নেই” বা “ক্যাবল দূরত্ব বেশি” এমন অজুহাত দেখিয়ে গ্রাহককে ঘোরানো হয়। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট দালাল বা লাইনম্যানের মাধ্যমে টাকা দিলে দ্রুত সংযোগ দেওয়া হয়। লাইন মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণের নামে ভুয়া দৈনিক মজুরিভিত্তিক (মাস্টার রোল) শ্রমিক দেখিয়ে প্রতি মাসে টাকা তোলা হয়। এছাড়া অফিসের ছোটখাটো কেনাকাটায় বাজারদরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামের ভাউচার জমা দেওয়া হয়।
জেলা অফিসের ক্যাবল সংস্কার বা নতুন লাইন টানার টেন্ডার ও কোটেশন প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কিছু স্থানীয় ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে গোপন কমিশন বা কিকব্যাক নেওয়া হয়।
জেলা অফিসে কর্মকর্তারা নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। তারা মাঠ পর্যায়ের লাইনম্যান বা সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারদের ওপর সব দায়িত্ব ছেড়ে দেন, যা নিচের স্তরে অবাধে দুর্নীতি করার সুযোগ তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিটিসিএল-এর সেবাকে শতভাগ ডিজিটালাইজড করা এবং জেলা অফিসগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় আইটি মনিটরিং ও অডিট ব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে এই দুর্নীতিগুলো অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
এ ব্যাপারে বিটিসিএল সাতক্ষীরার সহকারী ব্যবস্থাপক লালচাঁদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী অফিস করছি। কোনরকম দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে সম্পৃক্ত নই।
এ ব্যাপারে বিটিসিএল সাতক্ষীরার কর্মচারী জুনিয়র অপারেটর আফরোজা আক্তার বলেন, আমি দিনে তিন-চার ঘন্টা অফিস করি। তাতেই আমার কর্তৃপক্ষ খুশি। তার চুরি করে বিক্রি ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি অস্বীকার করেন।
নাগরিক নেতা আবুল হোসেন জানান, সরকারি কর্মচারীরা নিজেদেরকে রাজা-বাদশা মনে করেন। দুর্নীতির পাশাপাশি ঠিকমতো অফিস করেন না। বিভাগীয় তদন্ত ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
সাতক্ষীরার সচেতন মহলের দাবি, বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক। যার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীরা অন্যায় দুর্নীতি ও অনিয়ম থেকে অনেকাংশে দূরে থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :