প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান যোগদানের পরেই ঘুষের রেট বেড়েছে সাতক্ষীরা এলজিইডি অফিসে 


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন /
প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান যোগদানের পরেই ঘুষের রেট বেড়েছে সাতক্ষীরা এলজিইডি অফিসে 
স্টাফ রিপোর্টার : যোগদানের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে জেলার বাইরের ঠিকাদারদের ফুলেল শুভেচ্ছা নেওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় ঠিকাদারদের চাপে রাখতে তিনি ওটিএম পদ্ধতিতে টেন্ডার করার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন। সুত্র জানায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মোটা টাকা ঘুষের বিনিময়ে সাতক্ষীরা এলজিইডি অফিসে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পান মনিরুজ্জামান ।সদ্য যোগদান করা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে ঘিরে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্কের ঝড়।অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৭০ লাখ টাকা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে তিনি সাতক্ষীরায় বদলির আদেশ পান । আর এই মোটা অংকের  বিনিয়োগ দ্রুত তুলে নিতে  বেপরোয়া ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছে।অভিযোগ উঠেছে, বহিরাগত জেলার একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেটের পরামর্শে নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বড় বড় উন্নয়ন কাজগুলোকে ‘ওটিএম’  প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করছেন। এতে স্থানীয় ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বেন এবং বাইরের জেলার বড় ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া সহজ হবে। বিনিময় হিসেবে উক্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর পকেটে ঢুকবে নির্ধারিত ৪ শতাংশ কমিশন   ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। সূত্র আরো জানায়,  সাতক্ষীরায় যোগদানের পরপরই তিনি শেষ হওয়া  ও চলমান প্রকল্পের ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার বিভিন্ন ঠিকাদারি বিল পাস করিয়ে দেন। অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এই বিল ছাড় করার বিনিময়ে তিনি সরাসরি ৪ শতাংশ  কমিশন হিসেবে বিপুল অংকের নগদ অর্থ পকেটস্থ করেছেন।অভিযোগের পাহাড় নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ একবাক্যে এড়িয়ে যান। এসব বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত রুক্ষ, অসংবেদনশীল ও অপমানজনক আচরণ করেন সংবাদকর্মীদের সঙ্গে। কোনো স্পষ্ট জবাব না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে আরও জোরালো করে তুলেছে।​সাতক্ষীরা এলজিইডির এই নজিরবিহীন দুর্নীতির খবর ছড়িয়ে পড়ায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে স্থানীয় ঠিকাদার সমাজ এবং সাধারণ নাগরিকদের মনে।দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরার সচেতন মহল।