মাসিক খরচ লাখের ওপরে! ঘুষের ‘মহারাণী’ শর্মিষ্ঠার রাজকীয় জীবনের নেপথ্যে কোন আলাদিনের চেরাগ?


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২৮, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন /
মাসিক খরচ লাখের ওপরে! ঘুষের ‘মহারাণী’ শর্মিষ্ঠার রাজকীয় জীবনের নেপথ্যে কোন আলাদিনের চেরাগ?

*​ বছরে ৪ লাখ টাকা প্রাইভেট কারে যাতায়াত খরচ

*​ ঘুষ বাণিজ্যের অভয়ারণ্যে সবসময় পোস্টিং

*​ ঘুষের টাকায় বাংলাদেশ ও ভারতে অবৈধ সম্পদ

​শহর প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা ভূমি জগতের ঘুষের মহারানি হিসেবে পরিচিত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ওরফে ‘মাস্ক লেডি’ শর্মিষ্ঠা সরকার। ঘুষের টাকায় তিনি যাপন করেন চরম বিলাসী জীবন। ১১তম গ্রেডের একজন কর্মচারী হয়েও তার মাসিক খরচ লাখ টাকার ওপরে। এই অতিরিক্ত আয়ের উৎস নামজারি, প্রতিবেদন প্রদান ও খাজনা দাখিলাসহ বিভিন্ন খাতের অনিয়ম। শর্মিষ্ঠা তার পরিবারের মূল চালিকাশক্তি; তার স্বামী অসুস্থতাজনিত কারণে কর্মহীন।​সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, সদর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকার খুব সহজে মিষ্টি কথায় মানুষকে বশ করতে পারেন। যেকোনো ঘটনা ঘটার আগেই তিনি টাকা দিয়ে পরিস্থিতি ম্যানেজ করে ফেলেন। তিনি বছরের প্রায় ৪ মাস কালিগঞ্জ থেকে প্রাইভেট কারে যাতায়াত করেন। প্রতি মাসে খুলনাতেও একবার বা দুবার প্রাইভেট কার রিজার্ভ করে যাতায়াত করেন। প্রতি সপ্তাহে পার্লারে খরচ করেন হাজার হাজার টাকা। কালিগঞ্জ ও সাতক্ষীরা সদরে রয়েছে তার দুটি ভাড়া বাসা, যা মেইনটেনেন্স করতেই প্রতি মাসে খরচ হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, তার মা-বাবার পরিবারের খরচও তিনি নিজে বহন করেন। একজন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ১১তম গ্রেডে বেতন পেলেও তার মাসিক খরচ লাখ টাকা এই আয়ের উৎস কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।​ভুক্তভোগী থানাঘাটার ফারুক হোসেন বলেন, “শর্মিষ্ঠা টাকা ছাড়া কাজ করেন না। তিনি আমার একটি প্রতিবেদনের জন্য ২ লক্ষ টাকা নিয়েও বিপক্ষ পার্টির পক্ষে রায় দিয়েছেন। তিনি মাস্কের আড়ালে ঘুষ খান, নিজের চেহারা দেখান না। আমি এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।”পুরাতন সাতক্ষীরার আরেক ভুক্তভোগী জাহিদ বলেন, “নায়েব শর্মিষ্ঠার দালাল মুকুল ও ঝাউডাঙ্গার আলিম সিন্ডিকেটের মাধ্যম ছাড়া নামজারি (মিউটেশন) করা অসম্ভব। নায়েব শর্মিষ্ঠার এই দুই দালাল জানান যে ৭ হাজার টাকার নিচে কোনো মিউটেশন হবে না। আমি নিজে আবেদন করলেও শর্মিষ্ঠা ফাইল ছাড়েননি। পরবর্তীতে তার দালাল মুকুল ও আলিমের কাছে ৭ হাজার টাকা দেওয়ার পর আমার ফাইল ছাড়েন।” কিছুদিন আগেও এক ভুক্তভোগী ‘সাতক্ষীরা মাল্টিমিডিয়া’য় শর্মিষ্ঠা ও তার দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভিডিও বক্তব্য দেন, যা এলাকায় তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।নাগরিক নেতা আবুল হাসান বলেন, “একজন নারী কীভাবে নির্বিঘ্নে ঘুষ খেতে পারেন, তা সদর ভূমি অফিসের নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারকে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। তার মাস্কের আড়ালে রয়েছে ভয়ংকর এক দুর্নীতিবাজ চেহারা। দেশে ও ভারতে থাকা তার অবৈধ সম্পদ জব্দ করে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।”এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রাইভেট কার চালক বলেন, “নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকার সবসময় আমার গাড়িতে যাতায়াত করেন। তার যাতায়াতের জন্য বছরে ৩-৪ মাস আমার গাড়িটি রিজার্ভ থাকে। বেশিরভাগ সময় সাতক্ষীরা টু কালিগঞ্জ এবং কালিগঞ্জ টু খুলনা রুটে শর্মিষ্ঠা ম্যাডামকে নিয়ে যাতায়াত করতে হয়।”​এসব বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার শর্মিষ্ঠা সরকারের সাথে সরাসরি দেখা করতে তার অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।