সাতক্ষীরা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল হাসানের দৌড়ঝাপ শুরু


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২৮, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন /
সাতক্ষীরা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল হাসানের দৌড়ঝাপ শুরু
* শুক্র-শনিবার জেলার বাইরে দাপিয়ে বেড়ান সরকারী গাড়ীতে।
* নারী ও মাদকে আশক্ত।
* অনিয়ম ও দূর্ণীতির অভিযোগ বহু পুরাতন।
* কমিশন ওঠান কর্মচারি সৌমিত্র ও হাওলাদার।
* একটি রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্মের চেষ্টা।
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক : সাতক্ষীরা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এ,এস,এম তারিকুল হাসান খানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ও তিনি অফিস স্টাফ ও ঠিকাদারদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণ করেন। তিনি কাউকে তোয়াক্কা করেন না। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত তিনি জেলার বাইরে সরকারি গাড়ি নিয়ে ফুর্তি করে বেড়ান। তার বিরুদ্ধে নারী ও মাদকে আসক্ততার অভিযোগও আছে। একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা নাম ভাঙ্গিয়ে সকল অপকর্ম করে চলেছেন। তিনি গত বছরের ১৬ জুলাই সাতক্ষীরা এলজিইডি অফিসে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।
সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে “খুলনা বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প”-এর অধীনে আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউপি অফিস থেকে কাপসন্ডা বাজার ভায়া বাইনতলা ও ফটিকখালী সড়কটি (ঈয: ৩০০০-৫৭৩০স) বিসি (কার্পেটিং) দ্বারা উন্নয়নের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। যার প্যাকেজ নম্বর: কউজওউচ/ংধঃ/ড-২২১/২০২৩-২৪ (ওউ ঘঙ-৯৩১৮৪৫)।
সরকারি নথি (স্মারক নং-৪৬.০২.৮৭০০.০০০.০৭.১৮৪.২৪.৯৪১) অনুযায়ী, এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছিল ৩,০৭,৪৯,১৯৮/- (তিন কোটি সাত লাখ উনপঞ্চাশ হাজার একশত আটানব্বই) টাকা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস আর ট্রেডার্স ৪.৩৫% কম দরে দুই কোটি চুরানব্বই লাখ এগারো হাজার ছয়শত চুয়াত্তর টাকায় কাজটি পায়। ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়ার পর কাজ সমাপ্তির চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি।
সড়কটির মোট দূরত্বের মধ্যে ২৭৩০ মিটার রাস্তার ৪০% কার্পেটিং বাকি রয়ে গেছে। অর্থাৎ, ভৌত অবকাঠামোগত কাজের মাত্র ৬০% সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে বাকি প্রায় ৪০% কাজই করা হয়নি। অথচ, নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ধাপে ধাপে প্রায় শতভাগ বিলই ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, কাজ চলমান থাকা অবস্থায় একাধিক চলতি বিল উত্তোলন করা হয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় চলতি বিলের মাধ্যমে ঠিকাদারকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পরিশোধের সুপারিশ ও অনুমোদন দেওয়া হয়। বিল অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপে উপ-সহকারী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী, হিসাবরক্ষক এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষর রয়েছে।
এদিকে প্রাপ্ত বিলের হিসেব অনুযায়ী, কাজের মোট মূল্য ২,৯৪,১১,৬৭৪/- (দুই কোটি চুরানব্বই লাখ এগার হাজার ছয়শত চুয়াত্তর) টাকা। এর মধ্যে স্যালভেজ মূল্য হিসেবে (পুরোনো ইট/খোয়া) বাবদ কর্তন হবে ৯২,৬১,২৩২/- (বিরানব্বই লাখ একষট্টি হাজার দুইশত বত্রিশ) টাকা। এখানে স্পষ্ট হয় শতভাগ কাজ শেষ হলে মেসার্স এস আর ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. শহিদুল ইসলাম পাবেন ২,০১,৫০,৪৪২/- (দুই কোটি এক লাখ পঞ্চাশ হাজার চারশত বিয়াল্লিশ) টাকা। অথচ গত ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে মেসার্স এস আর ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. শহিদুল ইসলাম সোহেলকে তিন ধাপে সাতক্ষীরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম তারিকুল হাসান খান নিয়ম নীতির বাইরে গিয়ে নাম মাত্র স্যালভেজ মূল্য কর্তন করে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা দিতে ইতিমধ্যে ২,০২,৩২,৪১৯ টাকা পরিশোধ করেছেন।
যার মধ্যে স্যালভেজ মূল্যের (সম্পূর্ণ অংশ) ৯২,৬১,২৩২/- (বিরানব্বই লাখ একষট্টি হাজার দুইশত বত্রিশ) টাকা কর্তন করার নিয়ম থাকলেও তিনি ৩ ধাপে কর্তন করেছেন মাত্র ৩৫,০০,০০০/- (পয়ত্রিশ লাখ) টাকা। যা সম্পূর্ণ নিয়ম বহিভূত এবং অনৈতিক বলে দাবি করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সেই হিসেব অনুযায়ী ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস আর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. শহিদুল ইসলাম সোহেলের কাছে স্থানীয় সরকার (এলজিইডি) স্যালভেজ বাবদ এখনো ৫৭,৬১,২৩২/- (সাতান্ন লাখ একষট্টি হাজার দুইশত বত্রিশ) টাকা পাবেন। অথচ কাজ শেষ না হওয়া সত্বেও সাতক্ষীরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম তারিকুল হাসান খান নিয়ম নীতির বাইরে গিয়ে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় শতভাগ টাকা পরিশোধ করেছেন। এঘটনায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাস্তায় বালু ১০ ইঞ্চি, সাবভেজ ৬ ইঞ্চি, ম্যাকাডাম ৬ ইঞ্চি, কারপেটিং পিস ১ ইঞ্চি এবং গাইড অল ১২ মিলি রড ধরা আছে। রাস্তার কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং প্রাইম কোর্ট ছাড়াই মেকাডামের উপরে কারপেটিং করা হচ্ছে।
এদিকে, নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম তারিকুল হাসান খান এর বিরুদ্ধে ওয়ার্ক ওয়ার্ডার দেওয়ার সময় ২% ও বিল দেওয়র সময় আরো ২% হারে ঘুষ নিয়ে থাকেন। যেসকল ঠিকাদার দিতে রাজি হন না অথবা কম দেন তাদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করেন নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল হাসান। কমিশনের টাকার নামে ঘুষ ওঠান অফিসের হিসাব শাখার কর্মচারী সৌমিত্র ও হাওলাদার।সূত্র আরো জানায়, আশাশুনির  তিন কোটি টাকার  রাস্তার  কাজে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাজের মেয়াদ শেষ হলেও রাস্তার কাজ শেষ  হয়নি এখনো। ৪০ ভাগ কাজ না করেই বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করেছেন। ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সাতক্ষীরা এলজিইডি’র  নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল হাসান। রাস্তার প্রায়  ৬৫ লাখ টাকা নির্বাহী প্রকৌশলী  আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগকারীরা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। তাদের দাবি, কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে এলজিইডি সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল হাসান বিল পরিশোধে সহযোগিতা করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, নিম্নমানের কাজ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের কারণে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল হাসানকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে, সাতক্ষীরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল হাসান সরকারি গাড়ি নিজের  কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।  বৃহস্পতিবার বাড়ি নিয়ে যান আর রবিবারে সকালে অফিসে আসেন। এরমধ্যে খুলনায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে গাড়িটি। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী  তারিকুল হাসান অনিয়ম, দূর্ণীতি ও ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। দুর্ঘটনার কবলে পড়া বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি আরো বলেন, আপনাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।