
বিশেষ প্রতিনিধি : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাউসার আজিজের একটি বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূল প্রেক্ষাপট আড়াল করে অসাম্প্রদায়িক ও সুস্থ সমাজ গঠনের একটি ইতিবাচক বক্তব্যকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার এই ঘটনায় জেলার সচেতন মহল ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খোদ জেলা বিএনপি এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জেলা প্রশাসকের পাশে দাঁড়িয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত মঙ্গলবার জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়ে অন্তর্ভুক্ত ক্লাব ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতুল্লাহ (পলাশ) এবং সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলুসহ স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকবৃন্দ।সভায় জেলা প্রশাসক যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,আমি বারবার সব জায়গায় বলছি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকাতেও খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দিতে হবে। আপনারা যারা ক্রীড়ামোদী ও ক্রীড়া সংগঠক আছেন, তারা ক্রীড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কাজ করবেন। অনেকেই বলে সাতক্ষীরায় যে ধর্মান্ধতা চলে এসেছে, তাহলে সেটা আর বলবে না।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পুরো বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে কেবল ‘ধর্মান্ধতা’ সংক্রান্ত একটি খণ্ডিত অংশ কেটে প্রচার করা হয়। এই খণ্ডিত অংশটিকে কেন্দ্র করে কিছু ফেসবুক আইডি ও পেজে নেতিবাচক সমালোচনা শুরু হয়।এরই ধারাবাহিকতায়, বুধবার বিকেলে শহরের নিউমার্কেট মোড়ে সাতক্ষীরা জেলা ওলামা মাশায়েখ পরিষদের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের এই বক্তব্য ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। তবে স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, মূল বক্তব্যটি পুরোপুরি না জেনে কেবল খণ্ডিত ভিডিওর ওপর ভিত্তি করেই এই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতুল্লাহ (পলাশ) এবং সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়।জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কিছু অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।জেলা প্রশাসক ‘ধর্মান্ধ’ শব্দটি কোনো ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে হেয় করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেননি। বরং খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রসারের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।বক্তব্যের আংশিক ও বিকৃত উপস্থাপনার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো বক্তব্যকে তার প্রকৃত প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে ভিন্নভাবে প্রচার করা দায়িত্বশীলতার পরিপন্থী।বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ সবাইকে বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানান।এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একজন অসাম্প্রদায়িক কবি। তার স্মরণে এ বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও শিল্পকলা একাডেমিকে সঙ্গে নিয়ে আমরা নজরুল বর্ষের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।”তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “আমার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হয়েছে। পুরো বক্তব্য দেখলে বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট হবে।স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুবসমাজকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনার একটি ইতিবাচক ও উন্নয়নমুখী বক্তব্যকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল। মূল প্রেক্ষাপট আড়াল করে সামাজিক ও ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির এই অপচেষ্টা রুখে দিতে এবং যেকোনো তথ্য যাচাই না করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেলার বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ।
আপনার মতামত লিখুন :