* বঙ্গবন্ধু কবিতা পরিষদের সভাপতি।
* ভোলপাল্টে বিএনপি নেতা হওয়ার চেষ্টা।
* ছিলেন মুহুরির।
* আ’লীগ নেতা আবু আহম্মেদের কল্যানে বিনা ভোটে সেক্রেটারী পদ পান।
* আহছানিয়া মিশনে খাদ্য কষ্টে এতিমদের আহাজারি।
* উঠাও বাচ্চা রক্তচোষা লটারি আয়োজন করে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ।
বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক : দরিদ্র পরিবারের সন্তান, জীবন জীবিকার তাগিদে সাতক্ষীরা কোর্টের মুহুরির কাজ করতেন। দিনে ৫০/১০০ টাকা আয়ে তার ঠিকমত চলতো না। পরে ফুড অফিস মোড়ের বাসিন্দা সাতক্ষীরার একজন সিনিয়ন সাংবাদিকের ব্যাগ ও কাগজপত্র রাখার কাজ নেন। সেই সাংবাদিকের সহকারির কাজ করতে করতে নিজেকে সাংবাদিকের খাতায় নাম লেখান। ৮’ম শ্রেণী পাশ হওয়ায় ভালো কোন গণমাধ্যমে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। পরে নকল সার্টিফিকেটে দু’, একটি মিডিয়ায় কাজ করার সুযোগ পান। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা অধ্যাপক আবু আহম্মেদ এর আস্থা ভাজন হওয়ার সুবাদে ২০১৩-২০১৪ ও ২০১৪-২০১৫ সালে টানা দুইবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক হওয়ায় মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জলকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
সূত্র জানায়, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের পদ ব্যবহার করে জেলার চোরাকারবারী থেকে শুরু করে এনজিও, প্রশাসন, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন তিনি। সাতক্ষীরাতে গুড়পুকুরের মেলাকে কেন্দ্র করে যত অবৈধ কর্মকান্ড সংগঠিত হয়েছে তার মূল হোতা ছিলেন উজ্জল। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে উঠাও বাচ্চা নামক রক্তচোষা লটারি আয়োজন করে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে প্রেসক্লাবের নামমাত্র সামান্য অর্থ প্রদান করে বাকি টাকা আত্নসাত করেন তিনি।
আহছানিয়া মিশন মসজিদ কমপ্লেক্সে দোকান বরাদ্দের নামে টাকা আত্মসাত ও এতিমখানার অসহায় এতিমদের টাকা আত্মসাৎ করেছে।
প্রতিবন্ধী স্কুলের এক শিক্ষকের সাথে এনজিও খুলে বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা আত্মসাত করছে। দেবহাটার কুলিয়ায় ভারতীয় রেনু পোনার ব্যবসা চলে তার নেতৃত্বে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নাম ব্যবহার করে মানুষকে নিয়মিত হয়রানি করে। সাতক্ষীরার স্থানীয় সাপ্তাহিক মুক্ত স্বাধীন ও ইচ্ছেনদী পত্রিকায় উজ্জলের অন্যায় অত্যাচার অবৈধ উপার্জনের বিষয়ে দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ধারাবাহিকভাবে। ওই ঘটনায় সদর সার্কেল পুলিশ তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে। বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু কবিতা পরিষদের সভাপতি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেছে। এখন বিএনপি’র বড় নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে , বিএনপি নেতা হিসেবে সাতক্ষীরা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে নির্বাচন করেছেন।
আহছানিয়া মিশন মসজিদ কমপ্লেক্সে এর দোকান বরাদ্দের নামে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাত করে সেই টাকা দিয়ে শুরু করেছে আলিশান বাড়ি।
এব্যাপারে সাতক্ষীরা আহছানিয়া মিশনের সাবেক সাধারন সম্পাদক শেখ আজিজুল হক জানান, উজ্জল মিশনের সাধারন সম্পাদক হওয়ার পরে মাদ্রাসা, এতিম খানা ও মিশনে একচ্ছত্র আধিপত্ত বিস্তার করতে থাকে। দোকানঘর বরাদ্ধের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্নসাত করেছে। এতিমের হক ফাঁকি দিয়ে নিজের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত ছিলো। খাবারের কষ্টে ছিলো বাচ্চারা। খাদ্য কষ্ট আহাজারিতে রুপ নেয়। তার দায়ভার সব উজ্জলের। বাচ্চাদের খাওয়ার কষ্টের কথা জানতে পেরে আমার বাড়ির কাজের মহিলাও তাদের সহযোগিতা করেছে কিন্তু উজ্জলের হৃদয়ে আচ লাগেনি। সে মিশনটি ধ্বংসের পায়তারা করছে।
এব্যাপারে মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল বলেন,
সাতক্ষীরার সচেতন মহল ও নাগরিক নেতারা বহু অপকর্মের হোতা উজ্জলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :