কালিগঞ্জে গৃহবধূ নির্যাতন, স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ৪, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ন /
কালিগঞ্জে গৃহবধূ নির্যাতন, স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
কালিগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি:কালিগঞ্জের মথুরেশপুর ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামে গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই সন্তানের জননী খাদিজা খাতুন বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার স্বামী আব্দুর রবের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে ও দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, স্বামী তাকে উপেক্ষা করে নতুন করে আরেকটি বিয়ের পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি অপরিপক্ক আমে রাসায়নিক ব্যবহার করে দ্রুত পাকিয়ে বাজারজাত করার কাজে জড়িত থাকার প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুর রব তার ষষ্ঠ স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে বেধড়ক মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকার পাশাপাশি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। খাদিজা খাতুন জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অজুহাতে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। স্বামীর একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত। সর্বশেষ এই হামলার পর তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন এবং বাধ্য হয়ে আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত আব্দুর রব ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রাগের মাথায় মারধর করেছি, কিন্তু এতটা গুরুতর হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  মানবাধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, পারিবারিক সহিংসতার এমন ঘটনা সমাজে উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে। এ ধরনের নির্যাতন প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা জরুরি।