নিরাপত্তার চাদরে সাতক্ষীরা,ভোটের মাঠে ১৯ প্রার্থী-১৮ লাখ ভোটারের সিদ্ধান্ত আজ!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১২, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ন /
নিরাপত্তার চাদরে সাতক্ষীরা,ভোটের মাঠে ১৯ প্রার্থী-১৮ লাখ ভোটারের সিদ্ধান্ত আজ!

বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক : দীর্ঘ বিরতির পর অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশায় সাতক্ষীরাজুড়ে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জেলার চারটি সংসদীয় আসনের ৬০৯টি ভোটকেন্দ্রের ৩,৪১০টি বুথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৫ জন ভোটার।‎জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবার মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।আসন ভিত্তিক চিত্র :সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া):২৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে প্রার্থী ৫ জন। মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮৪৮ জন নারী ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৩, পুরুষ ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৭৩ এবং হিজড়া ২ জন। কেন্দ্র রয়েছে ১৬৮টি। এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও জামায়াতের অধ্যাপক ইজ্জত উল্লাহর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস স্পষ্ট।‎সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা):১৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে এ আসনে প্রার্থী ৬ জন। ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৬৫৪ জন নারী ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৮৫, পুরুষ ২ লাখ ৬৫ হাজার ৯৬৫ এবং হিজড়া ৪ জন। কেন্দ্র ১৮০টি। এখানে বিএনপির আলহাজ মো. আব্দুর রউফ, জামায়াতের মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক ও জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান আশু প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ):‎২৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে প্রার্থী ৫ জন থাকলেও একজন সরে দাঁড়িয়েছেন। ভোটার ৫ লাখ ২ হাজার ২২২ জন নারী ২ লাখ ৪৮ হাজার ২৩৫, পুরুষ ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮৪ ও হিজড়া ৩ জন। কেন্দ্র ১৬৫টি। বিএনপির কাজী আলাউদ্দীন, জামায়াতের মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলমের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির এডভোকেট আলিফ হোসেনও মাঠে আছেন।‎সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর):১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে এ আসনে প্রার্থী ৪ জন। মোট ভোটার ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫০ জন নারী ১ লাখ ৪৮ হাজার ২০, পুরুষ ১ লাখ ৫০ হাজার ২৬ ও হিজড়া ৪ জন। কেন্দ্র ৯৬টি। এখানে জামায়াতের সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও বিএনপির ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামানের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা।নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি‎ শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা দায়িত্বে থাকবেন। ভ্রাম্যমাণ টহল দল ও বিশেষ টিম প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচনী অপরাধ দমনে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন, প্রয়োজনে সংক্ষিপ্ত বিচারে তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদান করবেন।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সব কেন্দ্রে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন। আনসার সদস্যরা কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি পৌঁছে গেছে কেন্দ্রে কেন্দ্রে। অধিকাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে খুলনা রোড মোড়ে আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে বলেন, “একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে পুরো জেলায় চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখছে।”জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিরাপত্তা বলয় বহাল থাকবে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশায় গ্রাম থেকে শহর সবখানেই এখন ভোটের আলোচনা। আজ ব্যালটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে সাতক্ষীরার চার আসনের আগামীর প্রতিনিধিত্ব কার হাতে যাচ্ছে।