সাতক্ষীরার স্বাস্থ্যখাত জিম্মি সিভিল সার্জন অফিসের আশিক নেওয়াজের হাতে : গড়েছে বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদ!


নিউজ ডেস্ক প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৮, ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ন /
সাতক্ষীরার স্বাস্থ্যখাত জিম্মি সিভিল সার্জন অফিসের আশিক নেওয়াজের হাতে : গড়েছে বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদ!

* অবৈধ ক্লিনিক পরিচালনায় মাসিক মাসহারা আদায়।

‎* বিগত সময়ে জেলা ব্যাপী স্বাস্থ্য সহকারী পদে কোটি টাকার  নিয়োগ বাণিজ্য।

* সিভিল সার্জনকে জিম্মি করে সকল আউটসোসিং টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ।

বর্তমান সাতক্ষীরা ডেস্ক  :সাতক্ষীরা স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘবছর ধরে জিম্মি করে রেখেছে সিভিল সার্জন অফিসের বড়বাবু আশিক নেওয়াজ। জেলা ব্যাপী তিনি দ্বিতীয়  সিভিল সার্জন নামে পরিচিত। দীর্ঘবছর একই কর্মস্থলে থাকার সুবাদে গড়ে তুলেছে সক্রিয় সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট রয়েছে সদর হাসপাতালের আউটসোর্সিং টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য সহকারী পদে কোটি টাকার  নিয়োগবাণিজ্য  সহ বিভিন্ন খাত নিয়ন্ত্রণ । এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন আশিক নেওয়াজ নিজেই উপার্জন করেছে বিপুল পরিমান অবৈধ টাকা। এই অবৈধ টাকায় গড়ে তুলেছে শহরের কাটিয়া ১০ শতক জমির উপর তিনতলা সুউচ্চ ভবন। ৫০০ মিটার দূর থেকে উঁকি মারে এই ভবন  নাম দিয়েছে নেওয়াজ হাউজ। তবে তিনি এই অঞ্জলে পরিচয় লুকিয়ে  নিজের নাম বদলেও ফেলেছে তাকে আশিক নেওয়াজ নামে কেউ চেনে না।সরজমিনে অনুসন্ধান  জানা যায়, আশিক নেওয়াজের বাবা ছিল একজন সামান্য  চাকরিজিবি । বাবার চাকরিজীবনে ভাইবোনদের লেখাপড়া শিখিয়ে তেমন কোন সম্পদ রেখে যান নি। কিন্তু আশিক নেওয়াজ স্বাস্থ্য বিভাগের চাকরির সুবাদে অবৈধ ইনকামে গড়ে তুলেছে গ্রামে দুইতলা রাজকীয়  ভবন, গ্রামে ক্রয় করেছে কয়েক একর কৃষি ও মৎস্য ঘেরের জমি, শহরের কাটিয়ায় জমি ক্রয় করে তিনতলা আলিশান  বাড়ি,শহরের ভিতরে ২ জায়গায় প্লট জমি ক্রয় করেছে। ব্যাংকে তার  পরিবারের নামে রয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার ডিপোজিট।‎আশিক নেওয়াজ সাতক্ষীরা জেলার লাইসেন্স বিহীন অবৈধ ক্লিনিক গুলো সচল রাখতে ক্লিনিক গুলো থেকে প্রতি মাসহারা নেন। মাসহারা না পেলে অভিযান চালিয়ে ক্লিনিকগুলো সিলগালা করে দেন। পরবর্তীতে মাসহারা চালু হলে আবার অবৈধ ক্লিনিক খুলে দেন এমন নজির রয়েছে শত শত।তাছাড়া বছরে নবায়নের সময় প্রতিটা ক্লিনিক থেকে বাড়তি টাকা নেন ঘুষ হিসাবে। বৈধ ক্লিনিক গুলো বাৎসরিক নবায়নের টাকা না দিলে তিনি ফাইল ঘুরাতে থাকেন টাকা পেলে সেই ফাইল ছারপত্র দেন।‎সিভিল সার্জন অফিসের বড়বাবু হওয়ার সুবাদে যে সিভিল সার্জন আসে তাকে জিম্মি করে ফেলেন। বিগত সময়ে সিভিল সার্জনদের জিম্মি করে জেলাব্যাপী ইউনিয়ন ভিত্তিক স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ বাণিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা।  প্রতিটা ক্যান্ডিডেট থেকে সর্বনিম্ন ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি দিয়েছে আশিক নেওয়াজ।‎তার কথা মত না চললে বিভিন্ন কৌশলে ফাঁদে ফেলান নারী ও মদ দিয়ে।সম্প্রতি আলোচিত ঘটনা বর্তমান সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালামের সাথে আশিক নেওয়াজের বনি-বনা না হওয়ায় আউটসোর্সিং এক নারী ও মদ  দিয়ে ফাঁসিয়ে দেন সিভিল সার্জন ডা:আব্দুু সালামকে। পরে সেই মদ ও নারীর ছবি দিয়ে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল করে দেন।  আশিক নেওয়াজ ভাড়াটিয়া ভূমিহীন লোকজন টাকার বিনিময়ে সিভিল সার্জনকে  অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করান। যেটা জেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম নিয়েছিল এখনও সেই সমালোচনা চলছে। এই ফাঁদে পা দিয়ে ডা: আব্দুস সালাম বর্তমানে আশিক নেওয়াজের হাতে জিম্মি হয়ে গেছে । আশিক নেওয়াজের বাইরে এক পা চলতে পারেন না সিভিল সার্জন।‎আশিক নেওয়াজের রয়েছে আউটসোর্সিং টেন্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিজের ছেলে আউটসোর্সিং দেখভাল করেন।যে ঠিকাদার সদর হাসপাতালে জনবল সাপ্লায়ার কাজ পান আশিক নেওয়াজের একটা নির্দিষ্ট  পার্সেন্ট না দিলে কাজ করতে পারেন  না। আউটসোর্সিং মোটা অংকের টাকা নিয়ে থাকেন আশিক নেওয়াজ।‎সুইপার নার্স ডাক্তারদের বদলিও আশিক নেওয়াজের হাতে। এসব বদলির বিনিময়ে নেন মোটা অংকের টাকা। তাছাড়া কারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ হলে আশিক নেওয়াজ অভিযুক্তদের ডেকে টাকা নিয়ে সেই ফাইল গাশেব করে দেন। আলোর মুখ দেখে না ভুক্তভোগীদের এসকল অভিযোগ।আশিক নেওয়াজের প্রতিবেশী নাসির উদ্দিন জানান, আশিক নেওয়াজের বাবা সামান্য বেতনের চাকরি  করতো দাদা ছিল গরীব।তার বাবা চাকরির সুবাদে ভাইবোনদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করেছে তেমব কোন সম্পদ রেখে যায়নি। কিন্তু ঘুষখোর আশিক নেওয়াজ স্বাস্থ্য খাতে চাকরির সুবাদে দুর্নীতি অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য করে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ গড়েছে। কালিগঞ্জের মুকুন্দ মধুসুদুনপুরে গড়ে তুলেছে কয়েক কোটি টাকার রাজপ্রসাদা। দূর থেকে উঁকি মারে সেভবন। আশিক নেওয়াজ এলাকায় বহু মানুষের থেকে ১০ লাখ ১৫ লাখ টাকা নিয়ে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ দিয়েছে।  সে এলাকায় বলে আশিক নেওয়াজই সিভিল সার্জন।নাগরিক নেতা আবুল হোসেন বলেন, আশিক নেওয়াজ দুর্নীতিবাজ। সদর হাসপাতাল গিলে খাচ্ছে। আউটসোর্সিং টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ বাণিজ্য মাধ্যমে অবৈধ কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছে। গ্রামে ও শহরে বিলাশবহুল বাড়ি করেছে। এই বেতনে এত টাকার  সম্পদ বানানো কিভাবে সম্ভব। এই মহা দুর্নীতিবাজ  জেলার স্বাস্থ্য খাতকে শেষ করে ফেলছে। এর চাকুরিচ্যুত করে সকল অবৈধ সম্পদ জব্দ করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে কল্যান কাজে ব্যায় করা হোক।‎সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বড়বাবু আশিক নেওয়াজের কাছে অনিয়ম দুর্নীতির বিষয় জানতে চাইলে তিনি রেগে যান বলেন আমার নামে এর আগে অভিযোগ হয়েছে সেটা আমি সমাধান করছি। আমার অঢেল সম্পদ বিলাশবহুল বাড়ি এসকল বিষয়ে আপনি জানার কে। আপনি চাইলে নিউজ করতে পারেন। এবিষয়ে,,সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা: আব্দুস সালামকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ না জরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।